শমীক ভট্টাচার্যের ওপর প্রাণঘাতী হামলার ঘটনায় তোলপাড়! ডায়মন্ড হারবার থানায় নতুন অভিযোগ দায়ের বিজেপির!

রাজ্য রাজনীতিতে ফের এক চাঞ্চল্যকর আইনি ও রাজনৈতিক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ২০২০ সালের একটি পুরনো রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনার দীর্ঘ ছয় বছর পর সরাসরি সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক তথা ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর আপ্ত-সহায়ক সুমিত রায় সহ মোট ৭৯ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার থানায় এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। এই হাই-প্রোফাইল আইনি পদক্ষেপে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের ৬ অক্টোবর একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ডায়মন্ড হারবারের স্রোতের পোল মোড়ে একটি হিংসাত্মক হামলার ঘটনা ঘটেছিল। বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাসের দাবি, সেই সময়কার ওই হামলায় তৎকালীন বিজেপি নেতা তথা বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং তাঁর ওপর প্রাণঘাতী হামলার অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল। শুধু তাই নয়, এই সংঘর্ষে বিজেপির বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থকও গুরুতরভাবে জখম হয়েছিলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তৎকালীন পুলিশি তদন্তে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ও নিরপেক্ষ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে জোরালো অভিযোগ তুলেছেন ওই বিজেপি নেতা। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্ত প্রক্রিয়াকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ তাঁর।

আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফৌজদারি কার্যবিধির ১৭৩(৮) ধারায় অধিকতর তদন্ত এবং ১৫৬(৩) ধারায় আদালতের নির্দেশ বা আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুরনো ঘটনায় পুনরায় অভিযোগ দায়ের করা সম্ভব। সেই আইনি পথ ধরেই এবার নতুন করে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ঘটনার পর থেকেই ডায়মন্ড হারবারের রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে বিজেপির স্পষ্ট দাবি যে, বিগত দিনের ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্যই এই নতুন আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে; অন্যদিকে এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসন বা অভিযুক্ত শিবিরের পক্ষ থেকে পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।