রাজ্য রাজনীতির সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে বুধবার পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক সদর দপ্তর নবান্নের সংলগ্ন লোকভবনে অনুষ্ঠিত হলো এক ঐতিহাসিক মেগা শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভায় জায়গা করে নিলেন ৩৫ জন মন্ত্রী। রাজ্যের শাসনভার সুনিশ্চিত করতে এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে অভিজ্ঞ ও নবীনদের সমন্বয়ে সাজানো হয়েছে এই নতুন টিম। এদিন রাজ্যপালের উপস্থিতিতে মন্ত্রীরা তাদের শপথবাক্য পাঠ করেন, যা পশ্চিমবঙ্গের আগামী দিনের রাজনীতির নতুন দিশা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শপথগ্রহণ শেষে নবনিযুক্ত মন্ত্রীরা তাদের প্রতিক্রিয়ায় রাজ্যবাসীর স্বার্থে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। নতুন সরকারের লক্ষ্য কী হবে এবং কীভাবে পশ্চিমবঙ্গের সার্বিক উন্নয়নে তারা অবদান রাখবেন, সেই প্রসঙ্গে মন্ত্রীরা জানান, রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন এবং বেকারত্ব দূরীকরণ তাদের প্রধান লক্ষ্য। স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারা জানান, বুধবার থেকেই শুরু হবে দপ্তর বণ্টনের কাজ এবং অবিলম্বে সমস্ত মন্ত্রক তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিয়ে কাজ শুরু করবে।
मुख्यमंत्री শুভেন্দু অধিকারী তার নবগঠিত মন্ত্রিসভাকে নিয়ে বেশ আশাবাদী। তিনি জানান, রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও বেশি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন টিমের মূল কাজ। অভিজ্ঞ মন্ত্রীদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের মুখদের মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী একটি ভারসাম্যপূর্ণ ক্যাবিনেট তৈরি করেছেন। এই ৩৫ জন মন্ত্রীকে বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে, যা আগামী কয়েক বছরের জন্য রাজ্যের উন্নয়নের রূপরেখা নির্ধারণ করবে।
লোকভবনের এই শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে ছিল সাজ সাজ রব। বহু দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছিলেন তাদের প্রিয় নেতাদের শপথ নিতে দেখতে। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রশাসনিক আধিকারিকরা। অনুষ্ঠান শেষে প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে এখন দপ্তর বণ্টনের চর্চা। কারা কোন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর পাচ্ছেন এবং কোন মন্ত্রীর ওপর রাজ্যের উন্নয়নের গুরুভার থাকছে, তা নিয়েই এখন জল্পনা তুঙ্গে। নতুন সরকারের এই শুরুটা কতটা কার্যকরী হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ তুঙ্গে। প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি আনতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই নতুন ক্যাবিনেট কতটা সফল হয়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় বাংলার মানুষ।





