লেবুগাছের ডাল ছাঁটার অনুরোধ করতেই রক্তগঙ্গা! মাকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপে রক্তাক্ত বিজেপি নেত্রীর ছেলে

একটি লেবুগাছের ডাল ছেঁটে ফেলার সাধারণ অনুরোধকে কেন্দ্র করে ঘটে গেল চরম রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। মাকে হামলার হাত থেকে রক্ষা করতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হয়েছেন বিজেপির এক পঞ্চায়েত সদস্যার ছেলে। জখম ওই যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সঙ্গে সঙ্গে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই নৃশংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের মাথাভাঙা ১ নম্বর ব্লকের পচাগড় গ্রাম পঞ্চায়েতের মেলারডাঙা এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
আহত যুবকের নাম টোটন রায়। তিনি বিজেপির স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা কবিতা রায়ের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত অভিযোগ অনুযায়ী, এলাকার একটি রাস্তার উপর স্থানীয় এক তৃণমূল কর্মীর বাড়ির একটি লেবুগাছের ডাল অনেকটা ঝুঁকে পড়েছিল। এর ফলে পথচলতি সাধারণ মানুষের যাতায়াতে প্রতিদিন মারাত্মক সমস্যা হচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকার একাধিক সাধারণ মানুষ বিজেপি সদস্যা কবিতা রায়ের দ্বারস্থ হন। অভিযোগ, স্থানীয় বাসিন্দাদের সেই অনুরোধের ভিত্তিতেই তিনি সংশ্লিষ্ট গাছের মালিককে ডালটি ছেঁটে ফেলার সামান্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
আর এই অনুরোধকে ঘিরেই পরিস্থিতি হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কবিতা রায়ের অভিযোগ, ওই অনুরোধে ক্ষিপ্ত হয়ে সংশ্লিষ্ট তৃণমূল কর্মী প্রথমে তাঁকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন এবং পরবর্তীতে তাঁর উপর শারীরিক আক্রমণ করার চেষ্টা চালান। সেই মুহূর্তেই মাকে রক্ষা করতে সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে আসেন ছেলে টোটন রায়। অভিযোগ উঠেছে, সেই সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর উপর চড়াও হয়ে হামলা চালানো হয়। মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন অংশে ধারালো অস্ত্রের কোপে গুরুতর জখম হন তিনি। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে মাথাভাঙা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান।
এই ভয়াবহ ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার রাতেই মাথাভাঙা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন কবিতা রায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তৎপরতার সঙ্গে তদন্ত শুরু করে পুলিশ এবং ইতিমধ্যেই দু’জনকে আটক করেছে। বর্তমানে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
আহত বিজেপি নেত্রী কবিতা রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, “আমি শুধু এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অসুবিধার কথা ভেবে রাস্তার উপর ঝুঁকে থাকা গাছের ডাল কেটে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলাম। এর ফলেই আমার উপর প্রাণঘাতী হামলার চেষ্টা হয়। আমার ছেলে আমাকে বাঁচাতে গেলে ওকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়। আমি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”
যদিও এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তৃণমূল কর্মী কিংবা স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এপ্রসঙ্গে জেলা পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানিয়েছেন, দায়ের হওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃতপক্ষেই ব্যক্তিগত কোনো বিবাদ নাকি রাজনৈতিক কোনো বিরোধ রয়েছে, পুলিশ সেই সমস্ত দিক খুঁটিয়ে খতিয়ে দেখছে। তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেই ঘটনার আসল কারণ পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।