জমি দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে বড় স্বস্তি! অতীন ঘোষ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপে নিষেধাজ্ঞা

জমি দুর্নীতি এবং হোটেল ব্যবসায়ীর সম্পত্তি জোর করে দখলের অভিযোগের মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে সাময়িক স্বস্তি পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা তথা কলকাতা পুরনিগমের প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা। আগামী ১৪ অগাস্ট পর্যন্ত অতীন ঘোষ, তাঁর মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের কড়া পদক্ষেপ বা গ্রেফতারি করা যাবে না বলে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের একক বেঞ্চে আগামী ১০ অগাস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি ধার্য করা হয়েছে।
হোটেল ব্যবসায়ীর সম্পত্তি বলপূর্বক দখল করার গুরুতর অভিযোগে অতীন ঘোষ ও তাঁর কন্যা-জামাইয়ের বিরুদ্ধে প্রগতি ময়দান ও বিধাননগর উত্তর থানায় পৃথক এফআইআর দায়ের হয়েছিল। পুলিশি গ্রেফতারির আশঙ্কা এড়াতেই তাঁরা আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। আদালতে অতীন ঘোষের আইনজীবীরা সওয়াল করতে গিয়ে জানান, তাঁদের বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। এই মামলায় ইতিমধ্যেই বিধাননগর উত্তর থানার পুলিশ অতীন ঘোষ ও তাঁর কন্যা প্রিয়দর্শিনী ঘোষকে তলব করেছিল। আইনজীবীরা আদালতে আরও উল্লেখ করেন, অতীনবাবুর পরিবারে একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী রয়েছেন, যাঁকে নিয়মিত চিকিৎসা করাতে হয়। অথচ এই পরিস্থিতিতেও পুলিশ অহেতুক পরিবারের সদস্যদের নানাভাবে হয়রানি করছে। এই অবিলম্বে হয়রানি বন্ধ করার আর্জি জানান আইনজীবীরা।
এর আগে গত সোমবারও এই মামলার শুনানি হয়েছিল। সেই সময় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ মৌখিকভাবে মন্তব্য করেন যে অতীনদের এখনই গ্রেফতার করা যাবে না। পুলিশকে ভর্ৎসনা করে বিচারপতি বলেন, “দেখা যাচ্ছে রক্ষাকবচের মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক পরের দিনই আপনারা গ্রেফতারের পদক্ষেপ করছেন।” যদিও রাজ্যের পক্ষ থেকে আদালতে আশ্বাস দেওয়া হয় যে এখনই কাউকে গ্রেফতার করা হবে না।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর থেকেই একাধিক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগে এফআইআর দায়ের হওয়ার ঘটনা বেড়েছে। দুর্নীতি থেকে শুরু করে ভয় দেখানোর মতো গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে অনেকেই আইনি রক্ষাকবচ চাইতে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। এই দীর্ঘ তালিকায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অনুব্রত মণ্ডল সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতার নাম রয়েছে।
অতীতে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কয়েকটি মন্তব্য ঘিরে তুমুল রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের করা হয়। যদিও সেই মামলায় হাইকোর্ট তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল, কিন্তু বিতর্ক থামেনি। মামলার তদন্তের স্বার্থে বিধাননগর পুলিশ অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা চেয়েছিল, যা দিতে অস্বীকার করেছিলেন তিনি। অভিষেক যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যে মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক, সেটি যেহেতু তাঁরই, তাই নতুন করে কণ্ঠস্বরের নমুনা দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। কিন্তু হাইকোর্ট সেই যুক্তি খারিজ করে দেয়। আদালতের স্পষ্ট পর্যবেক্ষণ ছিল, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করার শর্তেই তাঁকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা না করলে সেই রক্ষাকবচ প্রত্যাহারও করা হতে পারে। আদালতের সেই নির্দেশ মেনে শেষ পর্যন্ত কণ্ঠস্বরের নমুনা জমা দিয়েছিলেন অভিষেক। আর এবার বর্তমান মামলায় সেই আইনি সুরক্ষাই পেলেন অতীন ঘোষ ও তাঁর পরিবার।