‘লুকোচুরি খেলার’ ছলে শাশুড়িকে চেয়ারে বেঁধে পেট্রল ঢেলে আগুন! পুত্রবধূর নৃশংসতায় হতবাক পুলিশ

অন্ধ্রপ্রদেশের ভাইজাগে এক মর্মান্তিক ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা দেশ। সামান্য পারিবারিক অশান্তির জেরে শাশুড়িকে হত্যার জন্য পুত্রবধূ যে নৃশংস পথ বেছে নিয়েছেন, তা হার মানাবে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত পুত্রবধূ ললিতা হত্যার আগে ইউটিউবে “বয়স্ক মহিলাকে কীভাবে হত্যা করবেন” লিখে সার্চ করে খুনের পদ্ধতি শিখেছিলেন।
শুক্রবার সকালে ভাইজাগের আপ্পান্নাপালেমের বর্ষিনী অ্যাপার্টমেন্টে জয়ন্তী কনক মহালক্ষ্মী (৬৬) নামে এক বৃদ্ধাকে দগ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।
ইউটিউবে শেখা ‘খুনের প্লট’
পুলিশের কাছে ললিতা স্বীকার করেছেন যে, শাশুড়ি তার স্বামীর কাছে ললিতার নামে মিথ্যা অভিযোগ করতেন এবং তাকে অপমান করতেন। এই কারণে শাশুড়ির প্রতি তার তীব্র ঘৃণা জন্মায় এবং তাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন।
পেট্রোল সংগ্রহ: পরিকল্পনামাফিক বৃহস্পতিবার লুকিয়ে ঘরে পেট্রল মজুত করে রাখেন ললিতা।
সময় নির্বাচন: শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে স্বামী বাইরে চলে যেতেই তিনি শাশুড়িকে খুনের জন্য উপযুক্ত সময় বেছে নেন।
‘লুকোচুরি’ খেলার নামে নৃশংসতা
ললিতা প্রথমে তার বাচ্চাদের ঠাকুমার সঙ্গে ‘লুকোচুরি’ খেলার জন্য ঘর থেকে বাইরে যেতে বলেন। তারা বেরিয়ে যেতেই:
১. বৃদ্ধা শাশুড়িকে একটি চেয়ারে বসিয়ে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে দেন। ২. তাঁর চোখে ও মুখে কাপড় বেঁধে দেন। ৩. এরপর তাঁর উপর পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। ৪. প্রতিবেশীরা যাতে চিৎকার শুনতে না পায়, সেজন্য তিনি টিভির ভলিউম বাড়িয়ে দেন।
আগুনের কারণে দড়ি খুলে যাওয়ায় বৃদ্ধা চিৎকার করতে করতে ঠাকুর ঘরের দিকে ছুটে যান, সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নাতনিরও হাত ও পা পুড়ে যায়।
পুলিশের জালে কীভাবে ধরা পড়ল?
ললিতা প্রথমে দাবি করেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা ঠাকুর ঘরের তেলের বাতি থেকে আগুন লেগে দুর্ঘটনা ঘটেছে। তবে পুলিশের সন্দেহ বাড়ে যখন জানা যায়, উল্টোদিকের এক প্রতিবেশী সাহায্য করতে এলে ললিতা তাকে থামিয়ে দিয়েছিলেন।
পুলিশ ললিতার ফোন পরীক্ষা করতেই আসল সত্য বেরিয়ে আসে। তাঁর ফোন ঘেঁটে পুলিশ ইউটিউবে করা ‘হাউ টু কিল ওল্ড লেডি’-এর মতো সার্চ ভিডিয়োগুলি খুঁজে পায়। শুক্রবার রাতে ললিতা তার অপরাধ স্বীকার করেন। পুলিশ খুনের মামলা দায়ের করে তাকে গ্রেফতার করেছে।
পশ্চিম জোনের এসিপি পৃথ্বী তেজা জানান, শাশুড়ির হয়রানি সহ্য করতে না পেরেই ললিতা এই হত্যার পরিকল্পনা করেন।