গোপন রিপোর্ট ফাঁস! ১২১টি আসনের মধ্যে ৬৮+ নিশ্চিত, প্রথম দফার ভোটেই এনডিএ-র বিরাট জয়ের দাবি, অস্বস্তিতে মহাগঠবন্ধন

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ের ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরই চাঞ্চল্যকর দাবি করে চমক দিল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (NDA)। জোটের অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন অনুসারে, প্রথম পর্যায়ের এই ১২১টি আসনের মধ্যে NDA জোট কমপক্ষে ৬৮টি আসন নিশ্চিতভাবে জিতবে বলে আশা করছে, যা ৮০-এরও উপরে উঠতে পারে।

বিজেপি এবং জেডিইউ নেতৃত্ব প্রকাশ্যেই ‘শক্তিশালী তরঙ্গ’-এর দাবি করায় মহাগঠবন্ধনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বিজেপি-জেডিইউ-র লক্ষ্যভেদ
এনডিএ-র অভ্যন্তরীণ রিপোর্ট অনুযায়ী, জোটের মূল শরিকদের লক্ষ্যমাত্রা:

বিজেপি: ৪৮টি আসনের মধ্যে ৩৮-৪০টি আসন নিশ্চিতভাবে জয় করবে বলে আত্মবিশ্বাসী। (যা ২০২০ সালের তুলনায় উন্নতি)।

জেডিইউ: ৫৭টি আসনের মধ্যে প্রায় ৪০টি আসনে জয়ী হবে বলে দাবি করেছেন নেতা বিজয় চৌধুরী। তিনি বলেন, “নীতীশ কুমারের শাসনের ফলাফল লোকের চোখে আছে।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহের দাবি আরও বেশি। তিনি বলেছেন, “বিহারে পরিস্থিতি খুব ভালো। আমরা আরামদায়ক অবস্থানে আছি এবং ১৬০-এর বেশি আসন জিতব।”

বিজেপি উপ-প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী সম্রাট চৌধুরী বলেছেন, “লোকেরা উন্নয়নের নামে ভোট দিয়েছে। এবার ঐতিহাসিক সংখ্যাগরিষ্ঠতায় এনডিএ সরকার গঠন করবে।”

মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণে ভরসা
৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এই ভোটে ৬৪.৪৬ শতাংশ ভোটারের অংশগ্রহণ হয়েছে। এনডিএ নেতৃত্ব মনে করছে, এই টার্নআউট জোটের পক্ষে ইতিবাচক সংকেত। সুপৌল, ঝাজ্ঝরপুর, খগড়িয়া সহ বেশ কিছু আসনে মহিলা ভোটারদের উচ্চ অংশগ্রহণ দেখা গেছে, যা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের ট্রেন্ড অনুযায়ী এনডিএ-র পক্ষেই কাজ করবে বলে তাদের শীর্ষ নেতৃত্ব মনে করছে।

তেজস্বীর পাল্টা দাবি
অন্যদিকে, আরজেডি-নেতৃত্বাধীন মহাগঠবন্ধন (আরজেডি, কংগ্রেস, সিপিআই, সিপিআই(এমএল), ভিআইপি) এনডিএ-র এই ‘তরঙ্গ’-এর দাবিকে উড়িয়ে দিয়েছে। মহাগঠবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী তেজস্বী যাদব বলেছেন,

“লোকেরা পরিবর্তন চায়। NDA জোট আর ফিরিয়ে আনতে চায় না। জঙ্গলরাজ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা ব্যর্থ হবে।”

মোট ২৪৩টি আসনের মধ্যে এই প্রথম পর্যায়ের ভোট বিহারের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের দিক নির্ধারণ করবে।