‘এলওপি মানে লিডার অব পার্টিয়িং’! বিহারে ভোট চলাকালীন জঙ্গল সাফারিতে রাহুল গান্ধী, তীব্র কটাক্ষ বিজেপির

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের আবহে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর মধ্যপ্রদেশে জঙ্গল সাফারিতে যোগদান নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দিয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’র মতো গুরুতর অভিযোগ এনে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছেন রাহুল গান্ধীও।
বিজেপির কটাক্ষ: ‘এলওপি মানে লিডার অব পার্টিয়িং’
রবিবার নর্মদাপুরম জেলার পচমাড়িতে কংগ্রেস সভাপতিদের প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগ দেন রাহুল গান্ধী। এদিন সকালে তিনি খোলা জিপে চেপে প্রায় ১০ কিলোমিটার জঙ্গল সাফারিতে যান। এই সময়েই বিজেপি মুখপাত্র শেহজাদ পুনাওয়ালা ব্যঙ্গ করে বলেন,
“রাহুল গান্ধীর কাছে এলওপি (লিডার অফ অপোজিশন) মানে ‘লিডার অব পার্টিয়িং’ (পার্টি করা নেতা)। বিহারে ভোট, আর উনি ছুটিতে। পরে হারলে দোষ দেবেন নির্বাচন কমিশনকে।”
পুনাওয়ালা আরও একটি হিন্দি কবিতা টুইট করে কংগ্রেসের আত্মসমালোচনার অভাবের ইঙ্গিত দেন।
রাহুলের পাল্টা আক্রমণ: ২৫ লক্ষ ভোট চুরি
জঙ্গল সাফারির মাঝেই রাহুল গান্ধী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেন এবং বিজেপিকে নিশানা করেন। তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র অভিযোগ এনে বলেন, বিজেপির ইশারায় ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন কর্মসূচির মাধ্যমে “ভোট চুরি” করা হচ্ছে।
তাঁর দাবি, “কয়েক দিন আগে আমি হরিয়ানার ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখেছি— ২৫ লক্ষ ভোট চুরি হয়েছে, অর্থাৎ প্রতি ৮টি ভোটে ১টি চুরি। একই ঘটনা ঘটছে মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র ও ছত্তীসগঢ়েও।”
মোদি-শাহ ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে আক্রমণ করছেন
রাহুল গান্ধী আরও অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জয়েশ কুমার একটি “যৌথ অংশীদারিতে” গণতন্ত্র ও সংবিধানকে আক্রমণ করছেন।
তিনি বলেন, “আম্বেদকরের সংবিধান আক্রান্ত হচ্ছে। মোদী, শাহ ও নির্বাচন কমিশন মিলে সরাসরি গণতন্ত্রকে ধ্বংস করছেন। এতে ভারতমাতার ক্ষতি হচ্ছে।”
এই প্রসঙ্গে তিনি হরিয়ানার হোডাল শহরের একটি বাড়ির ঠিকানার কথা উল্লেখ করেন, যেখানে স্থানীয় বিজেপি নেতার নামে নথিভুক্ত থাকা সত্ত্বেও ৫০১ জন ভোটারের নাম রয়েছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনাকে রাহুল গান্ধী ‘এইচ বোমা’ বা ভোটচুরি আখ্যা দিয়েছেন।
দিনের শেষে রাহুল গান্ধী বিহারের কিশনগঞ্জে নির্বাচনী সভায় যোগ দেওয়ার কথা।