“১০-১২ বছরের মেয়েদের বিয়ে বরদাস্ত করা হবে না!” বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ও কড়া পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের!

রাজ্যে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূল করতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ১৮ বছরের কম বয়সি যে সমস্ত নাবালিকারা হাসপাতাল বা নার্সিংহোমে সন্তান প্রসব করেছেন, তাঁদের স্বামীদের বিরুদ্ধে এবার পকসো (POCSO) আইনসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ করা হবে। একইসঙ্গে এই অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত যে সমস্ত পুরোহিত বা কাজিরা এই বাল্যবিবাহ দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কড়া হুংকার দেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, দেশের মধ্যে বাল্যবিবাহের ঘটনায় রাজ্যের অবস্থান শীর্ষে রয়েছে। এই অভিশাপ থেকে সমাজকে মুক্ত করতে এবার স্বাস্থ্য দফতরের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালাবে পুলিশ। গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত মাত্র ৬ মাসে রাজ্যে প্রায় ৬০ হাজার নাবালিকার প্রাতিষ্ঠানিক সন্তান প্রসবের চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে পেয়েছে স্বাস্থ্য দফতর।

কোন জেলায় ছবিটা কেমন? স্বাস্থ্য দফতরের রিপোর্ট অনুযায়ী, নাবালিকা মায়েদের নিরিখে গোটা রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা, যেখানে ওই ৬ মাসে ১২,৮৪৭ জন নাবালিকা সন্তান প্রসব করেছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগণা (৪,১৭৮ জন) এবং তৃতীয় স্থানে রয়েছে পূর্ব বর্ধমান (৩,৭৭৭ জন)। তুলনামূলকভাবে কিছুটা নিচে রয়েছে ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলা (১,৮০৬ জন)।

কড়া নির্দেশ ও আইনি হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সমস্ত নাবালিকাদের স্বামীদের স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে কারণ দর্শানোর (Show Cause) নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। স্বামীর বয়স একুশ এবং স্ত্রীর বয়স আঠারো বছর প্রমাণ করতে ব্যর্থ হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পকসো আইনে মামলা রুজু হলে অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে সরকারের কোনো প্রকল্পের সুবিধা আর পাবেন না। এছাড়া জন্ম নেওয়া শিশুগুলির স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী সাফ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, এই সরকারের আমলে ১০-১২ বছরের মেয়েদের বিয়ে কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না এবং অপরাধীদের খুঁজে খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।