‘বাবা, একদিন তোমাকে গর্বিত করব…’,”-দিল্লির মেস বিপর্যয়ে কেড়ে নিল মেধাবী তরুণের প্রাণ?

‘বাবা, একদিন আমাকে নিয়ে তোমার খুব গর্ব হবে। আমি তোমাকে মস্ত বড় অফিসার হয়ে দেখাব।’ রবিবারের দুপুরে দুঃসংবাদ আসার পর থেকে অক্ষতের বাবার কানে যেন বারবার বেজে চলেছে ছেলের বলা এই কথাগুলোই। কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চ পদে চাকরি পাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে মধ্যপ্রদেশের কাটনি থেকে রাজধানীতে এসেছিলেন ১৯ বছরের অক্ষত সিং যাদব। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিজিডিএভি কলেজে পড়ার পাশাপাশি ইউপিএসসি-র প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু দক্ষিণ দিল্লির সত্য নিকেতনে একটি পুরোনো বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় সেই সমস্ত স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গেল। ছুটির দুপুরে পিজির ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় ওই মেধাবী ছাত্রের নিথর দেহ।

ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই রাখির উৎসবে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে দিল্লিতে ফিরেছিলেন অক্ষত। মা-বাবার একমাত্র ভরসা ও বোন লিচির আদরের দাদা ছিলেন তিনি। তলোয়ার সংগ্রহের শখ ছিল তাঁর, সম্প্রতি আড়াই হাজার টাকা দিয়ে কেনা একটি তলোয়ার বোনকে উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি অসম্পূর্ণ রেখেই সব শেষ হয়ে গেল। গত রবিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ হঠাৎই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে সত্য নিকেতনের ওই বহুতলটি। ৩০টি ঘরে প্রায় ৭৫ জন পড়ুয়াকে গাদাগাদি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে ওই বেআইনি পিজিটির বিরুদ্ধে। ৫০ বছরের পুরোনো এই ভবনে অতিরিক্ত ফ্লোর তোলার কারণে এই বিপর্যয় কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। ভবনটির মালিক ও তাঁর স্ত্রী-পুত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার দুপুর সাড়ে তিনটে নাগাদ যখন মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছয়, তখন থেকেই বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন অক্ষতের মা। মোবাইলের স্ক্রিনে ছেলের হাসিমুখের ছবি আঁকড়ে ধরে তিনি কেবলই বলে চলেছেন, ‘যে সন্তানকে নয় মাস গর্ভে ধারণ করেছি, আজ তার নিথর দেহ কী করে দেখব?’ অন্যদিকে, সন্তানকে নিজের কাছে আটকে রাখতে না পারার আক্ষেপে মুড়ে গেছেন তাঁর বাবা। পড়াশোনা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় যে বাবা-মা বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ছেলেকে দিল্লিতে পাঠিয়েছিলেন, আজ তাঁদের সেই ঘর শূন্য। সিজেপি সহ বিভিন্ন মহল থেকে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা না ভেবে কেন এমন বেআইনি নির্মাণ চলতে দেওয়া হলো? দিল্লির এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ফের একবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল রাজধানী শহরের ছাত্রাবাসগুলির চরম নিরাপত্তা হীনতার ছবিটা।