লুকআউট নোটিশ অগ্রাহ্য করে শিশুপুত্রকে নিয়ে বিদেশি মায়ের পলায়ন, সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে দিল্লি পুলিশ ও কেন্দ্র

দিল্লি পুলিশ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের চরম গাফিলতি এবং দায়বদ্ধতার অভাবের ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনায়, আদালতের লুকআউট নোটিশ থাকা সত্ত্বেও এক রাশিয়ান মহিলা তাঁর চার বছর বয়সী শিশুপুত্রকে নিয়ে দেশত্যাগ করেছেন, যা দেশের নিরাপত্তা এবং বিচার ব্যবস্থার প্রতি এক বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি সূর্যকান্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনাকে ‘অমার্জনীয়’ আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে শিশুটিকে উদ্ধার করে আদালতের হেফাজতে আনার নির্দেশ দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত:

চন্দননগরের বাসিন্দা সৈকত বসু এবং তাঁর রাশিয়ান স্ত্রী ভিক্টোরিয়া বসুর মধ্যে সন্তানের হেফাজত নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, শিশুটি সপ্তাহে তিন দিন তার মায়ের কাছে থাকার কথা ছিল। কিন্তু গত ৭ জুলাই থেকে ভিক্টোরিয়া এবং তাঁর শিশুপুত্রের কোনো খোঁজ না পাওয়ায় সৈকত বসু সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন।

লুকআউট নোটিশ এবং ব্যর্থতা:

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে, ১৭ জুলাই শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে ভিক্টোরিয়া বসুর নামে লুকআউট নোটিশ জারির নির্দেশ দেয়, যাতে তিনি সন্তানকে নিয়ে দেশ ছাড়তে না পারেন। একই সাথে দিল্লি পুলিশকে শিশুটিকে খুঁজে বের করার নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৮ জুলাই কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানায় যে, নির্দেশ অনুযায়ী লুকআউট নোটিশ জারি করা হয়েছে।

কিন্তু ঘটনার মোড় নেয় ২১ জুলাইয়ের শুনানিতে, যখন কেন্দ্রীয় সরকার আদালতকে জানায় যে, লুকআউট নোটিশ জারির আগেই ভিক্টোরিয়া বসু দেশ ছেড়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, তিনি সম্ভবত বিহার হয়ে নেপাল এবং সেখান থেকে দুবাই হয়ে রাশিয়ায় পালিয়েছেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, শিশুটির পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে সেই দিনই দুই বিচারপতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

আদালতের তীব্র ভর্ৎসনা:

আজ শুক্রবারও (১লা আগস্ট, ২০২৫) শুনানি চলাকালীন দিল্লি পুলিশ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের ভূমিকায় সুপ্রিম কোর্ট চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে। বিচারপতিদ্বয় পুনরায় প্রশ্ন তোলেন, “লুকআউট নোটিশ থাকা সত্ত্বেও ভিক্টোরিয়া কিভাবে দেশ ছাড়তে পারলেন?”

শীর্ষ আদালত অবিলম্বে মস্কোর ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটিকে দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং আদালতের হেফাজতে থাকা শিশুকে নিয়ে পালানোর অপরাধ-সহ অন্যান্য ধারায় ভিক্টোরিয়ার বিরুদ্ধে মামলা রুজু করার নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনা স্পষ্টতই দেশের সীমান্ত সুরক্ষা এবং বিভিন্ন সরকারি এজেন্সির মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের চিত্র তুলে ধরেছে। এখন দেখার বিষয়, কেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকগুলি আদালতের নির্দেশ কতটা দ্রুত কার্যকর করে হারানো শিশুটিকে ফিরিয়ে আনতে পারে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy