লিভ-ইন রিলেশন রেজিস্ট্রেশনে কি কড়াকড়ি বাড়বে? পশ্চিমবঙ্গেও UCC বিলের তোড়জোড়!

উত্তরাখণ্ড, অসম ও গুজরাতের পর এবার কি পশ্চিমবঙ্গের পালা? রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। সূত্রের খবর, সোমবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (UCC) বিল ২০২৬ পেশ করতে পারে বিজেপি। বৃহস্পতিবার স্পিকার রথীন্দ্র বসুর ডাকা কার্যবিবরণী কমিটির বৈঠকে বিলটি পেশের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিধানসভায় বিলটি পাস হলে পশ্চিমবঙ্গ হবে দেশের চতুর্থ রাজ্য যেখানে UCC কার্যকর হবে।

UCC বিল কী এবং কেন? সহজ কথায়, UCC বা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি হলো এমন একটি আইন, যা ধর্ম-ভিত্তিক ব্যক্তিগত আইনের পরিবর্তে দেশের সকল নাগরিকের জন্য একটি অভিন্ন দেওয়ানি আইন কার্যকর করতে চায়। এর মূল লক্ষ্য হলো— ধর্ম, বর্ণ বা লিঙ্গ নির্বিশেষে বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, উত্তরাধিকার, দত্তক নেওয়া এবং সম্পত্তির অধিকারের মতো পারিবারিক বিষয়গুলোকে একই আইনের আওতায় নিয়ে আসা।

বিয়ে ও লিভ-ইন রিলেশনের ক্ষেত্রে কী কী পরিবর্তন হতে পারে? এই বিল লাগু হলে পারিবারিক ও সামাজিক আইনে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে:

  • বিয়ে ও ডিভোর্স: বিবাহের ৬০ দিনের মধ্যে সরকারি রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রয়েছে।

  • লিভ-ইন রিলেশন: বিলের খসড়া অনুযায়ী, লিভ-ইন রিলেশন শুরু করার ৩০ দিনের মধ্যে সরকারকে তা জানাতে হবে এবং রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক।

রেজিস্ট্রেশন না করলে কী হবে? উত্তরাখণ্ডের UCC আইনের উদাহরণ টেনে বলা যায়, লিভ-ইন রিলেশন শুরুর ১ মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন না করালে ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১০,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এমনকি রাজ্যের বাইরে বা বিদেশে থাকলেও সংশ্লিষ্ট রাজ্যের বাসিন্দা হলে এই নিয়ম মানা বাধ্যতামূলক। পশ্চিমবঙ্গে বিলটি পেশ হলে অনেকটা একই ধরনের কড়া নিয়ম চালু হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

বিতর্কের জায়গা কোথায়? এই বিলের প্রস্তাবনা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে। অনেকের মতে, এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের শামিল, আবার অনেকের মতে, এটি নারী অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য। যদিও পশ্চিমবঙ্গ সরকার এখনো এই বিল নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি, তাই এই পরিবর্তনগুলো আপাতত প্রস্তাবিত খসড়া বা জল্পনার পর্যায়েই রয়েছে।

সোমবার বিধানসভায় বিলটি পেশ হওয়ার পর তা নিয়ে শাসক ও বিরোধী দলের মধ্যে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। এখন দেখার, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায় কি না এই বিল।