তথ্য আদান-প্রদান আর দেরি নয়! কলকাতা পুলিশের কমিশনারের নজিরবিহীন নির্দেশে তোলপাড় প্রশাসন

শহরে যে কোনো বড় ধরনের দুর্ঘটনা, বিপর্যয় কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি রুখতে এবার তৎপর কলকাতা পুলিশ। আপৎকালীন পরিস্থিতিতে পুলিশের প্রতিটি স্তরে তথ্যের দ্রুত আদান-প্রদান এবং সমন্বয়ের অভাব ঘোচাতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অজয় নন্দ। বৃহস্পতিবার তিনি পুলিশের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের জন্য অত্যন্ত কড়া ভাষায় একটি নির্দেশিকা জারি করেছেন, যা পুলিশি মহলে ‘চার দাওয়াই’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

কলকাতা পুলিশের কমিশনারের জারি করা এই চার দফা নির্দেশাবলি মূলত জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশের প্রতিটি স্তরের দায়বদ্ধতা ও গতি বাড়ানোর লক্ষ্যে সাজানো হয়েছে। তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী:

প্রথমত, শহরে কোনো বড় ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) কালক্ষেপণ না করে সরাসরি লালবাজার এবং বিভাগীয় কন্ট্রোল রুমকে বিষয়টি অবহিত করবেন। ঘটনার ভয়াবহতা, সম্ভাব্য প্রভাব এবং প্রাথমিক পরিস্থিতির রিপোর্ট দ্রুত পৌঁছানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

দ্বিতীয়ত, স্থানীয় থানা থেকে পাওয়া তথ্য পাওয়ার পর লালবাজার কন্ট্রোল রুমকে কোনো দেরি না করে সেই রিপোর্ট শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা ডিউটিতে থাকুন বা না-থাকুন, এমনকি ছুটিতে থাকলেও তাঁদের কাছে ঘটনার তথ্য পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। এছাড়া, প্রয়োজনীয় সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে দ্রুত খবর দিতে হবে।

তৃতীয়ত, বিভাগীয় কন্ট্রোল রুমের ভূমিকাকে আরও জোরালো করা হয়েছে। থানার থেকে তথ্য পাওয়ার পরপরই সেই বিস্তারিত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় ডেপুটি কমিশনারের (ডিসি) কাছে পাঠাতে হবে। শুধু প্রাথমিক খবর নয়, ঘটনার পরবর্তী উদ্ধারকাজ, তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং পরিস্থিতির নিয়মিত আপডেটের ধারা বজায় রাখতে হবে।

চতুর্থ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ হলো পারস্পরিক সমন্বয়। সিপি অজয় নন্দ স্পষ্ট করেছেন, বড় কোনো ঘটনার সময় সংশ্লিষ্ট সমস্ত আধিকারিকদের একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ বজায় রাখতে হবে। সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রয়োজনে জরুরি বৈঠকের মাধ্যমে দ্রুত পরিস্থিতি মোকাবিলার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

কমিশনার অজয় নন্দ কঠোরভাবে হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, এই নির্দেশাবলী অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লালবাজার সূত্রের খবর, ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত জটিলতায় তথ্যের সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত করে পুলিশ প্রশাসনকে আরও জবাবদিহির আওতায় আনাই এই নতুন নির্দেশিকার প্রধান লক্ষ্য। এই পদক্ষেপের ফলে কলকাতা পুলিশের প্রতিটি স্তর যে জরুরি পরিস্থিতিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও সক্রিয় থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।