নিজস্ব প্রতিবেদন, মুম্বাই: মহারাষ্ট্র সরকারের উচ্চাভিলাষী ‘লাড়কি বেহেন যোজনা’ নিয়ে রাজ্যজুড়ে জোর চর্চা। সম্প্রতি এই প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় ৮১ লক্ষ মহিলাকে ‘অযোগ্য’ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। এরপরই প্রশ্ন উঠেছিল, তবে কি তাঁদের অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়া টাকা সরকার ফেরত নেবে? এই জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশ সাফ জানিয়ে দিলেন, অযোগ্য ঘোষিত মহিলাদের থেকে কোনো অর্থ আদায় করা হবে না।
কাদের থেকে টাকা ফেরত নেওয়া হবে?
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি তথ্য ভাণ্ডার যাচাই করে দেখা গিয়েছে, প্রায় ১৪,০০০ পুরুষ জালিয়াতি করে মহিলাদের নামে এই প্রকল্পের সুবিধা নিয়েছিলেন। সরকারি কোষাগারের অর্থ রক্ষার্থে সরকার এই ১৪,০০০ পুরুষের কাছ থেকে সম্পূর্ণ টাকা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে। ফড়নবীশ জোর দিয়ে বলেন, “এটি জনগণের টাকা, নিয়ম মেনেই তা খরচ করা উচিত।”
কেন বাদ পড়লেন ৮১ লক্ষ মহিলা?
নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী অদিতি তাতকরে জানিয়েছেন, শুধু ই-কেওয়াইসি (e-KYC) সম্পন্ন না করার কারণেই এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এমন নয়। এই তালিকার মধ্যে রয়েছেন—
আয়করদাতা: প্রায় ১১ লক্ষ মহিলা, যাঁদের বার্ষিক আয় ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি।
সরকারি কর্মচারী: প্রায় ১৪,০০০ সরকারি কর্মী যারা নিয়ম ভেঙে সুবিধা নিয়েছেন।
যানবাহন মালিক: আরটিও (RTO) তথ্যানুযায়ী, চার চাকার গাড়ির মালিক এমন বহু মহিলাও তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন।
অন্যান্য প্রকল্প: সঞ্জয় গান্ধী নিরাধার যোজনার সুবিধাভোগীরাও এই তালিকায় যুক্ত ছিলেন, তাঁদের একটি নির্দিষ্ট প্রকল্প বেছে নিতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট মহিলাদের প্রায় ৮ থেকে ১০ মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু মহিলা অভিযোগ করেছেন যে, ই-কেওয়াইসি করার পরেও তাঁদের বাদ দেওয়া হয়েছে। সরকার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে এবং প্রয়োজনে নতুন করে ই-কেওয়াইসি উইন্ডো খোলার চিন্তাভাবনা করছে।
সিএজি (CAG) দ্বারা নিরীক্ষা ও বিরোধীদের আক্রমণ
এই পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রকল্পটি ভারতের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি) দ্বারা নিরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পের ব্যাপক প্রচার এবং এখন ৮১ লক্ষ মহিলাকে অযোগ্য ঘোষণা করায় রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন এনসিপি (শরদ পাওয়ার গোষ্ঠী) নেতা জয়ন্ত পাতিল। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনার গাফিলতিই এই বিশৃঙ্খলার কারণ।
বর্তমানে যোগ্য সুবিধাভোগীদের ফেব্রুয়ারী ও মার্চ মাসের কিস্তি প্রদানের কাজ চলছে। তবে যারা গাড়ি থাকা সত্ত্বেও নিজেদের যানবাহনহীন দাবি করছেন, তাঁদের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।





