লন্ডন আইয়ের ধাঁচে এবার গঙ্গার পাড়ে ‘কলকাতা আই’! হাওড়াবাসীর জন্য এল বিশাল চমক

বিশ্বের পর্যটন মানচিত্রে লন্ডন বা দুবাইয়ের মতো শহরগুলোর প্রধান আকর্ষণ হলো তাদের ‘জায়ান্ট হুইল’ বা ‘আই’। এবার সেই আন্তর্জাতিক মানের বিনোদনের অভিজ্ঞতা পেতে শহর ছাড়তে হবে না। লন্ডন আইয়ের ধাঁচে গঙ্গার পাড়ে তৈরি হতে চলেছে ‘কলকাতা আই’। শিয়ালদহ কিংবা হাওড়া স্টেশনের ব্যস্ততা ছাপিয়ে এবার গঙ্গার তীরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে এই বিশাল নাগরদোলা এক নতুন মাত্রা যোগ করবে। রাজ্য সরকারের পর্যটন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এটি এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ।
কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষ (শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বন্দর) এই প্রকল্পের জন্য হাওড়া স্টেশনের অদূরে গঙ্গার পাড়ে প্রায় সাড়ে চার একর জমি চিহ্নিত করেছে। একটি বেসরকারি সংস্থার সাথে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি (PPP) মডেলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন হবে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রকের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই প্রকল্পের নীল নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং ওই বেসরকারি সংস্থার হাতে জমি হস্তান্তর করা হয়েছে।
প্রকল্পের বিশদ বিবরণ অনুযায়ী, লন্ডন আইয়ের আদলেই তৈরি হবে এই ‘কলকাতা আই’। লন্ডনের মূল আইটি উচ্চতায় ৪৪৩ ফুট এবং চওড়ায় ৩৯৪ ফুট। একবার পূর্ণ ঘূর্ণন সম্পন্ন করতে এটি ৪৫ মিনিট সময় নেয়। সেই একই উচ্চতা এবং বিশালতার দিকে নজর রেখেই হাওড়ার এই ‘আই’ তৈরি করা হবে। নাগরদোলার চূড়ায় উঠলে গঙ্গার বিস্তীর্ণ অঞ্চলসহ সমগ্র কলকাতা ও হাওড়া শহরের এক অপরূপ দৃশ্য দেখা যাবে, যা পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হবে।
পুর ও নগরোন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই জানিয়েছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের জমিতে এই প্রকল্পটি শুধু বিনোদনের জায়গা হিসেবেই গড়ে উঠবে না, বরং এটি একটি আধুনিক অ্যামিউসমেন্ট পার্কের রূপ নেবে। শহরকে আরও সুন্দর এবং আধুনিক করে তোলার লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকার যৌথভাবে এই পরিকল্পনায় কাজ করছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শহরকে বিশ্বমানের করে তোলার জন্য আগামী দিনে আরও বেশ কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
এই প্রকল্পের কাজ খুব দ্রুত শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে বেসরকারি সংস্থাটি প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। রাজ্য সরকারের লক্ষ্য, আগামী দুই বছরের মধ্যেই এই ‘কলকাতা আই’ জনসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই আই চালু হলে পর্যটন অর্থনীতিতে এক বিশাল বিকাশ ঘটবে। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা যারা কলকাতা বা হাওড়ায় আসবেন, তাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে এই প্রজেক্ট। এটি শুধুমাত্র হাওড়া বা কলকাতার গর্ব হবে না, বরং পূর্ব ভারতের পর্যটন শিল্পে এটি একটি ‘মাইলস্টোন’ হয়ে থাকবে।