পুরোনো কর ব্যবস্থাকে বিদায়? নতুন নিয়মে আয়কর বাঁচানোর গোপন টিপসগুলো জেনে নিন আজই

দপেই কোনো ছাড় পাওয়া যায়? তবে কর বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে পরিকল্পনা করলে নতুন কর ব্যবস্থার আওতাতেও করের বোঝা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। বর্তমানে করদাতারা মূলত দুটি বড় সুবিধার কারণে নতুন ব্যবস্থাকেই বেছে নিচ্ছেন—কম করের হার এবং রিবেটের সুবিধা।

১২.৭৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় কীভাবে করমুক্ত? বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নতুন কর ব্যবস্থায় ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে কোনো কর দিতে হয় না। এছাড়া রিবেটের সুবিধার কারণে বছরে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় কার্যত করমুক্ত। এর সঙ্গে বেতনভোগী বা পেনশনভোগীদের জন্য যুক্ত হয়েছে ৫০,০০০ টাকার ‘স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশন’ (Standard Deduction)। এই সব মিলিয়ে মোট ১২ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উপার্জনে এখন আর কোনো কর দিতে হয় না।

নতুন কর ব্যবস্থায় যে ক্ষেত্রে কর ছাড় পাওয়া যায়: অনেকেরই ধারণা নতুন ব্যবস্থায় কোনো ছাড় নেই, কিন্তু আয়কর আইনের কয়েকটি ধারায় এখনও কর ছাড় দাবি করা যায়:

  • হোম লোন (ধারা ২৪(বি)): যদি আপনার বাড়ি ভাড়া দেওয়া থাকে, তবে সেই বাড়ির হোম লোনের সুদের ওপর কর ছাড় দাবি করা যায়।

  • এনপিএস (ধারা ৮০CCD(2)): আপনার সংস্থা বা নিয়োগকর্তা যদি কর্মীর ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (NPS)-এ টাকা জমা করেন, তবে বেতনের সর্বোচ্চ ১৪ শতাংশ পর্যন্ত এই খাতে কর ছাড় পাওয়া যায়।

  • অগ্নিবীর কর্পস ফান্ড (ধারা ৮০CCH): অগ্নিপথ প্রকল্পের আওতায় ‘অগ্নিবীর কর্পস ফান্ড’-এ জমা হওয়া অর্থের ওপর ১০০ শতাংশ কর ছাড় রয়েছে। এক্ষেত্রে কর্মী ও কেন্দ্রীয় সরকারের অবদান—উভয়ই করমুক্ত।

আপনার জন্য কোনটি ভালো? এটি মনে রাখা জরুরি যে, নতুন কর ব্যবস্থায় ৮০সি (80C) বা ৮০ডি (80D)-র মতো বিনিয়োগভিত্তিক অধিকাংশ ছাড়ের সুবিধা নেই। তাই আপনার আয়, বিনিয়োগের ধরণ এবং আপনি কতটা ট্যাক্স সাশ্রয় করতে চাইছেন, তার ওপর নির্ভর করে আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

পরামর্শ: ইনকাম ট্যাক্স রিটার্ন (ITR) জমা দেওয়ার আগে অবশ্যই একজন কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নিজের আর্থিক অবস্থার সাথে মিলিয়ে দেখে নিন, পুরোনো নাকি নতুন কর ব্যবস্থা—কোনটি আপনার জন্য বেশি লাভজনক।