উত্তর কলকাতার অলিগলির অদ্ভুত বাস্তবতা! দেওয়াল বাঁচাতে বৃদ্ধের লড়াইয়ে হাসির আড়ালে মানবিক প্রশ্ন

উত্তর কলকাতার কোনো এক পুরনো পাড়া। রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক সাধারণ দেওয়াল। সেই দেওয়ালকে কেন্দ্র করেই এক বৃদ্ধের জেদ আর প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সংঘাত—সব মিলিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন বাংলা ছবি ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না’। ছবির নাম শুনেই হয়তো অনেকের ঠোঁটে হাসি ফুটবে, কারণ কলকাতার অলিগলি থেকে সদর রাস্তা—সব জায়গাতেই এমন নির্দেশিকা ফলক নজর কাড়ে। কিন্তু সেই নির্দেশিকা কি আদৌ মানুষের সচেতনতা ফেরাতে পারে? নাকি অভ্যাসের কাছে হার মানে সব নিয়ম? মূলত এই অদ্ভুত সামাজিক বাস্তবতাকে একগুচ্ছ ঘটনার নিরিখে বড় পর্দায় তুলে ধরছেন পরিচালক সৌভিক ভট্টাচার্য।
ছবির মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রবীণ অভিনেতা রাজতাভ দত্ত। তাঁর অভিনীত চরিত্রের নাম নির্মল ভট্টাচার্য। নির্মল একজন একগুঁয়ে এবং অভিমানী বৃদ্ধ, যিনি তাঁর ভগ্নপ্রায় বাড়ির দেওয়ালটিকে সুরক্ষিত রাখতে রোজ এক অদ্ভুত যুদ্ধে নামেন। দেওয়ালে লেখা ‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না’—এই নিষেধাজ্ঞাটিই যেন তাঁর জীবনের একমাত্র ব্রত। অন্যদিকে, এই গল্পের অন্য এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র বাবলা, যে পাড়ার এক বখাটে অথচ প্রাণখোলা যুবক। সায়ন ঘোষ অভিনীত বাবলা চরিত্রের উপস্থিতি গল্পে আনে হাস্যরস আর এক ধরনের অস্থিরতা, যা শেষ পর্যন্ত নির্মলের কঠোর মনোভাবকে ভেতর থেকে নাড়িয়ে দেয়।
গল্পের আবেগের স্তরটি ফুটে উঠেছে মিনতি চরিত্রটির মাধ্যমে, যার ভূমিকায় রয়েছেন বৈশাখী রায়। মিনতি একদিকে নির্মলের বাড়ির কাজের মেয়ে, অন্যদিকে তার একাকীত্বের নীরব সাক্ষী। তাদের সম্পর্কের জটিলতা এবং নির্মলের একাকীত্বই ছবির মূল ভিত্তি। পরিচালকের মুন্সিয়ানায় হাস্যরসের আড়ালে ধরা পড়েছে শহুরে জীবনের অদ্ভুত সব বাস্তবতা, যা অনেক সময় আমাদের অগোচরেই থেকে যায়।
‘ইডিয়টস বক্স’-এর প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবির পরিচালনা করেছেন সৌভিক ভট্টাচার্য। সৌরভ মালাকারের মূল গল্পের ওপর ভিত্তি করে চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন সৌরভ মালাকার এবং সপ্তর্ষি ঘটক। ছবির চিত্রগ্রহণে রয়েছেন সুদীপ্ত মজুমদার, সম্পাদনায় গৌরবময় বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সঙ্গীত ও আবহ সঙ্গীতে শুভদীপ মজুমদার। নির্বাহী প্রযোজক হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন সৌম্য সেনগুপ্ত।
‘এখানে প্রস্রাব করিবেন না’ কেবল একটি সিনেমা নয়, বরং শহুরে জীবনের এক দর্পণ। দেওয়াল বাঁচাতে গিয়ে বৃদ্ধের লড়াই আর তার চারপাশে থাকা বিভিন্ন চরিত্রের মানসিক দোটানা দর্শককে হাসানোর পাশাপাশি গভীর কোনো মানবিক প্রশ্নের সামনে দাঁড় করাবে। রাজতাভ দত্তের মতো অভিনেতার সাবলীল অভিনয় এবং সায়ন ঘোষের প্রাণবন্ত উপস্থিতি এই ছবিকে কতটা উচ্চতায় নিয়ে যায়, তা দেখার অপেক্ষায় এখন সিনেমাপ্রেমীরা। শহুরে মানুষের বোধোদয় এবং অভ্যাসের পরিবর্তনের এক অনন্য আখ্যান নিয়ে খুব শীঘ্রই বড় পর্দায় আসছে এই ছবি।