লক্ষ্মীর ভাণ্ডার অতীত, এবার ৩০০০ টাকা! ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর বিরাট ধামাকা

রাজ্যের মা-বোনেদের জন্য বিরাট খুশির খবর! বিপুল জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের দিন শেষ হতে চলেছে, তবে তা বন্ধ হওয়ার জন্য নয়, বরং আরও বড় রূপ ধারণ করার জন্য। বর্তমান সরকার ঘোষণা করেছে, এবার থেকে রাজ্যের মহিলারা ১৫০০ টাকার বদলে সরাসরি ৩০০০ টাকা করে মাসিক ভাতা পাবেন। বিজেপি সরকারের এই নতুন প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’। এদিকে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছিল, নতুন প্রকল্প এলে কি পুরোনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে? মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পই বন্ধ হবে না, বরং অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করে মহিলাদের আরও স্বাবলম্বী করা হবে।
সম্প্রতি এক ঘোষণায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগামী ১ জুন থেকেই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩০০০ টাকা ঢুকতে শুরু করবে। এই ঘোষণার পর থেকেই সাধারণ মহিলাদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, এই সুবিধার জন্য কি নতুন করে আবেদন করতে হবে? এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, যে সমস্ত মহিলাদের নাম ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পে নথিভুক্ত রয়েছে, তাঁদের নতুন করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আবেদন করতে হবে না। তাঁদের ডেটাবেস থেকেই সরাসরি নতুন প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। তবে যাঁদের নাম নেই, তাঁরা খুব সহজেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।
অগ্নিমিত্রা পাল আরও জানিয়েছেন, সাধারণ ও স্বল্পশিক্ষিত মহিলাদের কথা মাথায় রেখে অনলাইন পোর্টালটিকে অত্যন্ত সহজ ও সরল করা হচ্ছে। আগে ‘দুয়ারে সরকার’ ক্যাম্পের মাধ্যমে আবেদন জমা নেওয়া হলেও, এখন থেকে ঘরে বসেই ফর্ম ফিলাপ করা যাবে। সরকার চায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে, তাই সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি (DBT) বা ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফারের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হবে। তবে একটি বিষয় মাথায় রাখতে হবে, বর্তমানে পুরোনো গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টগুলো পুনরায় পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যদি কোনো তথ্যের গরমিল থাকে, তবে ভাতা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই দ্রুত নিজের কেওয়াইসি (KYC) এবং ব্যাঙ্কের তথ্য মিলিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু করেছিল ৫০০ টাকা দিয়ে, যা ধাপে ধাপে বেড়ে ১৫০০ টাকা হয়েছিল। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেই সেই ভাতাকে এক ধাক্কায় দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। শুধু তাই নয়, বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতাও ১০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০০০ টাকা করার সবুজ সংকেত মিলেছে। কন্যাশ্রী বা যুবশ্রীর মতো প্রকল্পগুলোও জারি থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন। ১ জুন থেকে রাজ্যের মহিলাদের আর্থিক ক্ষমতায়নের এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।