রেললাইনে এবার বসছে ‘আকাশের চোখ’! বর্ষার আগে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের হাইটেক পরিকল্পনায় চমক

বর্ষার প্রলয় রুখতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (NFR)। উত্তর-পূর্ব ভারতের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বর্ষাকালে ট্রেন চলাচল প্রায়ই ভূমিধস এবং বন্যার কারণে থমকে যায়। এই চিরস্থায়ী সমস্যার সমাধানে এবার অত্যাধুনিক ‘অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন’ (AWS) স্থাপনের কাজ শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। এই হাইটেক সিস্টেমের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম আবহাওয়ার পূর্বাভাস মিলবে, যা বড়সড় দুর্ঘটনা এড়াতে ঢাল হিসেবে কাজ করবে।
রেল সূত্রের খবর, উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অধীনে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নয়টি স্থানে এই অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশনগুলি বসানো হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে অসমের লামডিং–বদরপুর সেকশন, মিজোরামের কাটাখাল–সাইরাং সেকশন এবং মণিপুরের জিরিবাম–খংসাং সেকশন। এই এলাকাগুলি মূলত ভারী বৃষ্টিপাত এবং হড়পা বানের জন্য পরিচিত। নয়টির মধ্যে ইতিমধ্যেই তিনটি স্টেশনের কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ছয়টি স্টেশনের কাজ ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
এই ওয়েদার স্টেশনগুলি ভারতীয় আবহাওয়া দপ্তরের (IMD) সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবে। এতে বসানো হয়েছে অত্যন্ত শক্তিশালী সেন্সর। রেইন গেজ সেন্সরটি প্রতি ঘণ্টায় ৯০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির তীব্রতা মাপতে সক্ষম। পাশাপাশি, এখানকার টেম্পারেচার সেন্সরগুলো মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে প্লাস ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা নিখুঁতভাবে রেকর্ড করতে পারে। শুধু তাই নয়, ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগ যদি প্রতি সেকেন্ডে ৮০ মিটারও হয়, তবে উইন্ড মনিটরিং সেন্সর তা সহজেই চিহ্নিত করতে পারবে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, এই প্রযুক্তির ফলে প্রতিকূল আবহাওয়ায় আগেভাগেই সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে। ফলে ট্রেন থামিয়ে দেওয়া বা রুট ডাইভার্ট করার মতো সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়া সম্ভব হবে। এর ফলে যেমন প্রাণহানি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যাবে, তেমনই পাহাড়ি অঞ্চলের রেল সংযোগ ব্যবস্থাকে আরও মজবুত করা সম্ভব হবে। আধুনিক প্রযুক্তির এই ব্যবহার রেলওয়ের অপারেশনাল নিরাপত্তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।