রাজ্যে চালু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের ফর্ম প্রকাশ এবং তা পূরণের নিয়মাবলী নিয়ে বুধবার নবান্নে বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তোপ দাগেন পূর্ববর্তী প্রকল্পের দুর্নীতির বিরুদ্ধে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত দিনে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন এমন অনেক ব্যক্তি বা উপভোক্তার তালিকায় ‘বেনোজল’ ঢুকে পড়েছে। উদাহরণস্বরূপ তিনি ‘রাকিবুল শেখ’-এর মতো নাম উল্লেখ করে বোঝাতে চান যে, নিয়মের ফাঁকফোকর গলিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিরা সরকারি সুবিধা আত্মসাৎ করেছেন।
কীভাবে রুখা হবে বেনোজল? নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ প্রকল্পের ফর্ম ফিলাপের প্রক্রিয়ায় যাতে কোনোভাবেই অনিয়ম না হয়, তার জন্য কড়া নজরদারির বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন:
আধার লিঙ্কিং বাধ্যতামূলক: প্রতিটি আবেদনকারীর আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সরাসরি সংযোগ (DBT) থাকা জরুরি। এর মাধ্যমে পরিচয়পত্রের সঠিকতা যাচাই করা হবে।
সরাসরি তথ্য যাচাই: আবেদনপত্রের তথ্যের সাথে সরকারি ডেটাবেস মিলিয়ে দেখা হবে। ফলে একজনের নামে একাধিকবার বা অযোগ্য ব্যক্তির সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
স্বচ্ছতা: মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুফল কেবল প্রকৃত ও যোগ্য উপভোক্তারাই পাবেন। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পেয়েছেন, তাদের নতুন করে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে, যাতে নতুন ডেটাবেসে কোনো ভুল না থাকে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু না হওয়া পর্যন্ত পুরনো প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা বর্তমান নিয়মেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাবেন। তবে নতুন প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখাই সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এখন দেখার, এই নতুন ফর্ম ফিলাপ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্য সরকার কতটা নিখুঁতভাবে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি করতে পারে।





