পরীক্ষায় কারচুপি করলেই সোজা ৫ কোটি জরিমানা! সংসদে আসছে ঐতিহাসিক সংশোধনী বিল?

দেশজুড়ে চলা তীব্র জাদরেল বিতর্ক ও সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের লাগাতার অভিযোগের আবহে পরীক্ষা সংক্রান্ত অপরাধ দমনে আরও বহু গুণ কঠোর ও আপসহীন আইন আনার পথে হাঁটছে কেন্দ্র সরকার। সূত্রের খবর অনুযায়ী, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার পবিত্রতা রক্ষা ও সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ‘পাবলিক এগজামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) সংশোধনী বিল, ২০২৬’-এ শুক্রবার আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই অত্যন্ত জনমুখী ও দূরদর্শী বিলটিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত সংসদে পেশ করার নির্দেশ দিয়েছেন, এবং আগামী সোমবারই লোকসভায় বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে তোলা হতে পারে বলে প্রশাসনিক মহলে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই নতুন সংশোধনী বিলে বিগত ২০২৪ সালের মূল আইনের শাস্তির মাত্রা ও বিধানগুলিকে উল্লেখযোগ্যভাবে বহু গুণ বাড়ানো হয়েছে। বর্তমান বিধান অনুযায়ী যেখানে ন্যূনতম তিন বছরের কারাদণ্ডের সংস্থান ছিল, নতুন বিলে তা এক লাফে বাড়িয়ে পাঁচ বছর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১০ বছর পর্যন্ত করার কঠোর প্রস্তাব রয়েছে। শুধু জেলের মেয়াদই নয়, আর্থিক জরিমানার অঙ্কও রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। সর্বোচ্চ জরিমানার অংক ১০ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক ধাক্কায় সোজা ৫০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে।
বিশেষভাবে উল্লেখ্য, পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত কোনো বেসরকারি সংস্থা বা থার্ড-পার্টি সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁস বা পরীক্ষায় জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আরও বহু গুণ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এমন অপরাধী সংস্থার ওপর সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা ধার্য করা যেতে পারে এবং ভবিষ্যতে কোনোভাবেই যাতে তারা সরকারি পরীক্ষা পরিচালনার সুযোগ না পায়, সেজন্য তাদের আট বছর পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে, যা বর্তমানে মাত্র চার বছর ছিল। এছাড়াও সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত সংস্থার কোনো ডিরেক্টর বা শীর্ষকর্তার বিরুদ্ধে ন্যূনতম পাঁচ বছরের জেলের সাজা এবং ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক জরিমানা করা হতে পারে।
সংগঠিত চক্র বা অপরাধী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচালিত পরীক্ষায় দুর্নীতির ক্ষেত্রে আরও বহুগুণ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধে জড়িতদের ন্যূনতম সাত বছরের কারাদণ্ড এবং অন্তত ১০ কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়াও এই ধরনের দেশজুড়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তদন্ত প্রক্রিয়াকে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শেষ করতে কেন্দ্র বিশেষ টাস্ক ফোর্স (STF) গঠনের বিশেষ ক্ষমতা হাতে পাবে। প্রয়োজনে তদন্তভার সিবিআই-এর মতো কোনো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতেও তুলে দেওয়া যেতে পারে। নতুন সংশোধনী অনুযায়ী, এই সমস্ত মামলার তদন্ত সর্বোচ্চ দু’ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচার প্রক্রিয়া রেকর্ড গতিতে সম্পন্ন করতে দেশের প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। চার্জশিট জমা পড়ার তিন মাসের মধ্যে প্রতিদিন টানা শুনানি চালিয়ে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এমনকি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন পুরনো মামলাগুলিও এই বিশেষ ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টগুলিতে স্থানান্তরিত করা হবে। এই আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করা যাবে এবং সেই আপিলও তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার আইনি বন্দোবস্ত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রের জোরদার দাবি, এই কঠোর সংশোধনী পাসের মাধ্যমেই আগামী দিনে দেশের সমস্ত সরকারি পরীক্ষার স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা আরও দুর্ভেদ্য হয়ে উঠবে। তবে ঠিক সময়ে সংসদে এই বিলটি পেশ হলে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা সংস্কারের মতো জ্বলন্ত ইস্যুতে শাসক ও বিরোধীপক্ষের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক সংঘাত ও তীব্র বাদানুবাদের প্রবল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।