জিম্বাবোয়েকে উড়িয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় ভারতের! কোন বিশ্বরেকর্ড ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়ল টিম ইন্ডিয়া?

আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কঠিন লড়াই ও হারের স্মৃতি পেছনে ফেলে অবশেষে জিম্বাবুইয়ের বিরুদ্ধে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে আরও একটি ঐতিহাসিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ নিজেদের পকেটে পুরে নিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। এখনও সিরিজের একটি ম্যাচ বাকি থাকতেই জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের গৌরব অর্জন করল টিম ইন্ডিয়া। এই জয়ের পাশাপাশি নিজেদের গড়া পূর্বের একটি অনন্য রেকর্ড ভেঙে বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করল ভারতীয় দল। জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে পাহাড়প্রমাণ ২১৯ রান সংগ্রহ করে ভারত। এই বিশাল রানের সুবাদেই এক ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশিবার ২০০ বা তার বেশি রান করার অবিশ্বাস্য বিশ্বরেকর্ড নিজেদের নামের পাশে পাকা করে নিল রোহিত-কোহলি উত্তরসূরিরা।
চলমান ২০২৬ সালে টিম ইন্ডিয়ার এটি নবম সর্বমোট ২০০ প্লাস স্কোর। এর আগে ভারতীয় দল নিজেরাই ২০২৪ সালে এক পঞ্জিকাবর্ষে ৯ বার ২০০ বা তার বেশি রান করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিল। ক্রিকেটের পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের আর কোনো পূর্ণ সদস্য দেশ এখনও পর্যন্ত এক বছরে ৬ বারের বেশি ২০০ প্লাস স্কোর করতে সক্ষম হয়নি। এই পরিসংখ্যানেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ভারতীয় দলের একচ্ছত্র আধিপত্য ও আগ্রাসী ব্যাটিং কতটা ভয়ঙ্কর। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে ভারত এখনও পর্যন্ত সর্বমোট ৫২ বার ২০০ বা তার বেশি রান করার অনন্য নজির গড়ল, যা সর্বকালের বিশ্বরেকর্ড। এই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় ভারতের ঠিক পরেই ধারেকাছে রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা সর্বসাকল্যে মাত্র ২৯ বার ২০০-র বেশি রান করার কৃতিত্ব অর্জন করেছে।
গতকাল অনুষ্ঠিত ম্যাচটির শুরুটা অবশ্য ভারতের জন্য মোটেও সহজ ছিল না। পাওয়ার প্লের শুরুর ওভারগুলির মধ্যেই দুই বিধ্বংসী ওপেনার অভিষেক শর্মা ও তরুণ বৈভব সূর্যবংশী দ্রুত আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেলে গভীর বিপদে পড়ে যায় ভারত। তবে প্রাথমিক এই জোড়া ধাক্কা অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় সামলে নিয়ে দলকে শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করান অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার ঈশান কিষান এবং নির্ভরযোগ্য মিডল-অর্ডার ব্যাটার তিলক ভার্মা। এই দুজনে মিলে ভারতীয় ইনিংসে রানের পাহাড় গড়তে দারুণভাবে সাহায্য করেন। ঈশান কিষান এদিন ব্যাট হাতে এক ঝলমলে ও মারকাটারি ইনিংস খেলে সংগ্রহ করেন দুর্দান্ত ৮১ রান। অন্যদিকে, দলের রানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে মাত্র ২৯ বল মোকাবেলা করে বিধ্বংসী ও অপরাজিত ৬০ রানের এক অতি মূল্যবান ইনিংস খেলেন তিলক ভার্মা।
এরপর ইনিংসের শেষ ৫ ওভারে ভারতীয় ব্যাটারদের তাণ্ডবে মোট ৬১ রান সংগ্রহ করে টিম ইন্ডিয়া, যা তাদের স্কোরবোর্ডকে এক লাফে পৌঁছে দেয় জিম্বাবোয়ের সামনে ২১৯ রানের এক বিশাল ও অজেয় পাহাড়ে। রান তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের সামনে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে জিম্বাবোয়ে দল এবং শেষ পর্যন্ত মাত্র ১২৯ রানেই অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। যার ফলে টানা দুর্দান্ত বোলিং ও ব্যাটিং প্রদর্শনের সুবাদে ৯০ রানের বিশাল ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় শক্তিশালী ভারতীয় দল। পরিশেষে, আরও একটি ২০০-র বেশি রানের বিস্ফোরক ইনিংসের সুবাদে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে বড় স্কোর গড়ে জয়ের অনন্য নজির গড়ার ক্ষেত্রে ভারতের অপ্রতিরোধ্য সাফল্য ও শ্রেষ্ঠত্ব আরও একবার বিশ্বমঞ্চে জোরালোভাবে প্রমাণিত হল।