রেস্তরাঁর খাবার খেয়েই মর্মান্তিক পরিণতি! ৫ বছরের শিশুর মৃত্যুতে হাহাকার, সিল হল জনপ্রিয় হোটেল

রেস্তরাঁ থেকে অনলাইন বা অফলাইনে খাবার অর্ডার করে খাওয়া আজকালকার দিনে খুব সাধারণ একটা ব্যাপার। কিন্তু সেই শখের খাবারই যে কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে, তার এক মর্মান্তিক প্রমাণ মিলল গুজরাটের সুরাতে। রেস্তরাঁ থেকে খাবার অর্ডার করে খাওয়ার জেরে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে পাঁচ বছরের এক শিশুকন্যার। এই একই ঘটনায় ওই পরিবারের আরও চার সদস্য গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটের সুরাটের বরাছা এলাকায়।

প্রশাসন সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, গত ১৫ অগস্ট অর্থাৎ স্বাধীনতা দিবসের দিন বরাছার ‘শীতল’ নামক একটি জনপ্রিয় রেস্তরাঁ থেকে বিশেষ সব্জির একটি পদ অর্ডার করেছিল ওই পরিবার। সুস্বাদু সেই খাবার খাওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বমি ও পেটের সমস্যা দেখা দেয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন ১৬ অগস্ট থেকে একে একে পাঁচজন সদস্যই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘক্ষণ ধরে বমি এবং শারীরিক দুর্বলতার জেরে ১৭ অগস্ট সকালে ওই পাঁচ বছরের শিশুকন্যাটি সম্পূর্ণ অচেতন হয়ে পড়ে। পরিবারের লোকজন তড়িঘড়ি তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর শিশুটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বর্তমানে শিশুটির মৃতদেহের ময়নাতদন্ত চলছে। পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

পরিবারের বাকি সদস্যদের মধ্যে শিশুটির বাবা কিছুটা সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তবে শিশুটির মা এবং অপর দুই ভাইবোন এখনও হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে তাঁদের শারীরিক অবস্থা কিছুটা স্থিতিশীল হলেও পুরো পরিবারটি এক গভীর ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। তদন্তে নামে সুরাত মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (SMC)। পুরসভার স্বাস্থ্য আধিকারিকরা ওই রেস্তরাঁর রান্নাঘরে আচমকাই হানা দেন। তদন্তে নেমে রান্নাঘরে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতার মারাত্মক গাফিলতি এবং ফুড সেফটির নিয়মনীতি লঙ্ঘনের ছবি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে খাবার তৈরির প্রমাণ মেলায় অবিলম্বে সুরাত পুরসভার পক্ষ থেকে ওই রেস্তরাঁটি সিল করে দেওয়া হয়।

তদন্তকারী আধিকারিকরা রেস্তরাঁ থেকে রান্না করা খাবার এবং কাঁচামালের একাধিক নমুনা সংগ্রহ করেছেন। সেগুলি ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সুরাত পুরসভার মেডিক্যাল হেলথ অফিসার পি এইচ উমরিগর গণমাধ্যমকে জানান, বরাছা এলাকার ওই রেস্তরাঁ থেকে সমস্ত সন্দেহজনক উপাদানের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। রান্নাঘরের পরিবেশ সন্তোষজনক না হওয়ায় রেস্তরাঁটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার কঠোর নির্দেশিকা দিয়ে নোটিস ধরানো হয়েছে।

এদিকে, এই মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন গুজরাটের স্বাস্থ্যমন্ত্রী প্রফুল পনশেরিয়া। তিনি জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ও সুরাত পুরসভার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে জরুরি ভিডিও কনফারেন্স করে পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ নেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আক্রান্ত পরিবারের সদস্যদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মৃত শিশুটির শোকসন্তপ্ত পরিবারের সঙ্গে ফোনে কথা বলে সমবেদনা জানান তিনি। মন্ত্রীর এই কড়া নির্দেশের পরেই সুরাটের সমস্ত জোনে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুরসভা। শহরের প্রতিটি রেস্তরাঁ ও ফুড স্টলে পরিচ্ছন্নতা, স্বাস্থ্যবিধি এবং খাদ্য নিরাপত্তার মান বজায় রাখা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোরদার তল্লাশি চলছে।