“তেতে আগুন লোহার সিঁড়ি..”-হোটেলের মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড, চাঞ্চল্য যুবকের কথায়

তারাপীঠের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের রেশ কাটতে না কাটতেই ঠিক দু’দিনের মাথাতে কলকাতার বুকে পুনরাবৃত্তি ঘটল মর্মান্তিক ঘটনার। সোমবার তারাপীঠের হোটেলে ৯ জনের মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই মঙ্গলবার মধ্যরাতে ধর্মতলার কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি বহুতলে অবস্থিত হোটেলে ভয়াবহ আগুন লেগে প্রাণ হারালেন আরও ৯ জন। এই দুর্ঘটনায় ভিতরের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ ছিল, তা সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেছেন প্রাণে বেঁচে ফেরা প্রত্যক্ষদর্শীরা।

মঙ্গলবার সকালেই হোটেল ‘শিখা ইন’-এ চেক-ইন করেছিলেন উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা পৃথিবী। সহকর্মীদের সঙ্গে কলকাতায় ঘুরতে এসেছিলেন তিনি। তাঁর কথায়, হোটেলের পেছনের দিকে রুম পাওয়ার কারণেই হয়তো আজ তিনি বেঁচে আছেন। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, হোটেলের সামনের দিকের অংশ মুহূর্তের মধ্যে ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল।

পৃথিবী আরও জানান, বহুতলটিতে যাতায়াতের জন্য একটিমাত্র সংকীর্ণ সিঁড়ি এবং একটি মাত্র লিফ্ট ছিল। ৪-৫ তলার ওই ভবনে এক একটি তলায় ছোট ছোট ৪-৫টি হোটেল চালানো হতো। আগুন লাগার পর আতঙ্কিত মানুষ যখন সিঁড়ি দিয়ে নামার চেষ্টা করেন, তখন তীব্র গরমে লোহার সিঁড়ি তেতে আগুন হয়ে উঠেছিল। তাতে পা রাখামাত্র পুড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে হোটেলের পিছনের ঘরের জানলা ভেঙে টিনের শেডে নেমে কোনোমতে প্রাণে বেঁচে ফেরেন তিনি। পা পিছলে আঘাত পেলেও বরাতজোরে জীবন রক্ষা পায় তাঁর।

প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ ও তদন্ত কমিটি

ঘটনার পর থেকেই হোটেল মালিক পলাতক রয়েছেন। তবে নিউ মার্কেট থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। কলকাতা পুলিশের অ্যাডিশনাল সিপি (অপরাধদমন) কুণাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য একটি বিশেষ সিট (SIT) গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি দমকল বিভাগের পক্ষ থেকেও স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করা হয়েছে। দমকল প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানিয়েছেন, এই দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ রয়েছে এবং বিল্ডিংটিতে কী ধরনের নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।