দীপাবলির আগেই কি কেল্লাফতে? উত্তরপ্রদেশের মহিলাদের জন্য এককালীন বড় অনুদান আনছে যোগী প্রশাসন

মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে আরও বেশি শক্তিশালী এবং স্বাবলম্বী করে তুলতে এবার এক বিশাল ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে চলেছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (DBT) এই আর্থিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রাজ্যের মহিলাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা এবং দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন খাতের সঙ্গে যুক্ত করে মোট ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদানের কথা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে উত্তরপ্রদেশ সরকার।

মহিলাদের এককালীন টাকা না দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক ও নারী কল্যাণকর প্রকল্পের সুফল ধাপে ধাপে সরাসরি উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই বিশেষ উদ্যোগের আওতায় মোট ৭টি প্রধান সরকারি স্কিমকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘মুখ্যমন্ত্রী কন্যা সুমঙ্গলা যোজনা’-র মাধ্যমে জন্ম থেকে শুরু করে স্নাতক স্তর পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাগত ধাপে ধাপে মোট ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। দ্বিতীয়ত, রাজ্যের মেধাবী ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে ‘রানি লক্ষ্মীবাই স্কুটি যোজনা’-র অধীনে বিনামূল্যে স্কুটি বিতরণের ভাবনা রয়েছে। তৃতীয়ত, ‘নিরাশ্রিত মহিলা পেনশন যোজনা’-র আওতায় রাজ্যের অসহায় ও বিধবা মহিলাদের প্রতি তিন মাস অন্তর ৩,০০০ টাকা করে আর্থিক ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

চতুর্থত, সমাজকল্যাণমূলক ‘রানি লক্ষ্মীবাই মহিলা এবং বাল সম্মান কোশ’-এর মাধ্যমে হিংসার শিকার হওয়া মহিলা ও শিশুদের চিকিৎসার সমস্ত খরচ বহন করবে রাজ্য সরকার। পঞ্চমত, দরিদ্র পরিবারের কন্যাদের বিবাহে আর্থিক সহায়তা দিতে কার্যকর রয়েছে ‘মুখ্যমন্ত্রী সমুহিক বিবাহ যোজনা’, যার মাধ্যমে অসহায় পরিবারের মেয়েদের বিয়েতে সরাসরি অনুদান দেওয়া হয়। ষষ্ঠত, মহিলাদের স্বনির্ভর করে তুলতে স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও ‘লাখপতি দিদি’ প্রকল্পের মাধ্যমে ব্যবসা ও আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। সপ্তমত, রাজ্যের ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সি প্রবীণা মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে যাতায়াতের বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। যোগী সরকারের এই বহুমুখী মহিলামুখী প্রকল্পগুলি রাজ্যের কোটি কোটি নারীকে আর্থিকভাবে সাবলম্বী করার পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে এক শক্তিশালী হাতিয়ার হয়ে উঠবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মহল।