টলিপাড়ায় ফের বোমা ফাটালেন জিতু কামাল! জিৎ-এর ছবি দেখে যা বললেন, শুনলে চোখ কপালে উঠবে

টলিপাড়ায় আবারও তরজা তুঙ্গে। সুপারস্টার জিৎ-এর নতুন ছবি ‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পরই নিজের গভীর অনুভূতির কথা সোজাসাপটা ফেসবুকে শেয়ার করেছেন জনপ্রিয় অভিনেতা জিতু কামাল। এর আগে জিৎ-এর ‘মানুষ’ ছবিতে প্রধান খলনায়কের চরিত্রে তাক লাগিয়ে দেওয়া এই অভিনেতা এবার জিতের নতুন প্রজেক্ট নিয়ে এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গেছে চলচ্চিত্র মহলে।

বৃষ্টিভেজা এক দুপুরবেলায় মাকে সঙ্গে নিয়ে সিনেমা হলে গিয়েছিলেন জিতু। ছবি দেখে বেরোনোর পর তাঁর মা অল্প কথায় ছবিটিকে ‘ভাল’ বললেও, জীবনের এই প্রথমবার তিনি নিজের মাকে সিনেমা হলে তালি দিতে দেখেছেন—যা জিতুকে ভীষণভাবে নাড়া দিয়েছে। ছবির একটি বিশেষ দৃশ্য এবং ‘মানুষের আদর্শ বদলায় না’- এই মূল ভাবনাটি তাঁর মনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

‘কেউ বলে বিপ্লবী কেউ বলে ডাকাত’ ছবির সাফল্য প্রসঙ্গে অনেকেই যখন বলছেন এটি পুরোপুরি একটি ‘জিৎ-এর শো’, তখন জিতু কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তাঁর মতে, এই ছবিটি শুধু একজন তারকার নয়, বরং স্বাধীনতা-উত্তর সমাজে টলিপাড়ার তাবড় নেতা-অভিনেতাদের নিশানা করে তিনি লেখেন, “ইন্ডাস্ট্রির তাবড় তাবড় নেতা-অভিনেতাদের কাউকে ঠিক বলতে শুনলাম না ছবিটা নিয়ে। তাঁরা নিজেদের ছবি, নিজেদের ইচ্ছাপ্রণোদিত ব্যস্ততায় ব্যস্ত থাকেন। নিজেরাই জাতীয় পুরস্কার পান, নিজেরাই নিজেদেরকে পুরস্কার দেন আর যা যা আছে দিয়ে থাকেন। সে ভাল, কিছু নিয়ে তো একটা ব্যস্ত আছেন, নয়তো হতাশায় তো আর বেশি দিন বাঁচা যায় না।”

পাশাপাশি, পরিচালক অনীক দত্ত এবং তাঁকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রির কুৎসিত গুঞ্জন ও ষড়যন্ত্রের কথাও প্রকাশ্যে এনেছেন জিতু। তিনি জানান, একসময় রথী-মহারথীরা প্রচার করেছিলেন যে ঋতুপর্ণ ঘোষের মৃত্যুর পর অনীক দত্তর ছবি মুক্তি পেয়েছিল আর সেটা নাকি একদিক থেকে ভাল-ই ছিল। কারণ অনীক দত্তের পরিচালিত ছবি নাকি ঋতুপর্ণ ঘোষের অসুস্থতার কারণ হতে পারত! এসব নেতিবাচক মানসিকতার মানুষদের ওপর একপ্রকার কটাক্ষ করে জিতু লেখেন, ইউনিভার্স ও ঈশ্বর তাঁদের উপযুক্ত জবাব দিচ্ছেন।

জিতু আরও লিখেছেন, “আমি ধন্যবাদ জানাই জিৎদাকে ও তাঁর টিমকে, এই ধরনের ছবি আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য। এই ছবি দেখার পর জিৎদাকে আরও বেশি করে ‘দাদা’ বলতে ইচ্ছা করছে। কারণ সমাজের যে প্রেক্ষাপট এই ছবি তুলে ধরেছে, তার মধ্যে আমি আর আমার মতো হাজারও মানুষও প্রতিদিন না মরে বেঁচে আছি।”

সমস্ত সমালোচনা ও কুৎসাকে পেছনে ফেলে সুপারস্টার জিৎ যেভাবে নিজের কাজ ও আধ্যাত্মিক সততা বজায় রেখে এগিয়ে চলেছেন, তারও ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জিতু। দীর্ঘ প্রতীক্ষা, ধৈর্য এবং ব্যর্থতার মাঝেও কনসিস্টেন্সি বজায় রাখার যে শিক্ষা জিৎ দিয়েছেন, তা তরুণ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলেই বিশ্বাস তাঁর। শেষ পর্যন্ত সততার জয় হয় এবং সমস্ত কুৎসা ও ষড়যন্ত্রকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বিপ্লব ও সাফল্য আসবেই, ক্রান্তি আসবেই—এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেই নিজের লেখা শেষ করেছেন জিতু কামাল।