রেলযাত্রীদের সুরক্ষায় আরপিএফ-এর সার্জিক্যাল স্ট্রাইক! উদ্ধার কোটি টাকার মাদক ও মোবাইল

যাত্রীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবং অপরাধীদের দমনে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের (NFR) রেল সুরক্ষা বাহিনী (RPF) এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সাম্প্রতিক একাধিক সফল অভিযানের মাধ্যমে আরপিএফ কর্মীরা কেবল মাদক কারবারিদের কোমর ভেঙে দেননি, বরং মানবিকতার পরিচয় দিয়ে অসহায় ও বিপদগ্রস্ত যাত্রীদের ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল রেল চত্বরকে অপরাধমুক্ত রাখা এবং যাত্রীদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তোলা।

মাদক ও চোরাচালান দমনে সাফল্য:
আরপিএফ-এর গোয়েন্দা বিভাগ ও জওয়ানদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এনএফআর-এর আওতাধীন বিভিন্ন স্টেশনে বড় ধরনের সাফল্য মিলেছে। অভিযান চালিয়ে প্রায় ১৫ কেজিরও বেশি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৭.৬০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি, রেল পুলিশ (GRP) ও আবগারি বিভাগের সহযোগিতায় ট্রেন ও স্টেশন চত্বর থেকে ১৮৫ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ২০ হাজার টাকারও বেশি। এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের হাতেনাতে ধরে সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

মোবাইল চোর ও অপরাধী ধরপাকড়:
রেল স্টেশনে মোবাইল চুরির ঘটনা ক্রমবর্ধমান হওয়ায় আরপিএফ বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে। সাম্প্রতিক এই অভিযানে প্রায় ১.০৪ লক্ষ টাকা মূল্যের সাতটি দামি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত অপরাধীদের জিআরপি-র কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে যাতে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়। চুরি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কার্যকলাপ দমনে আরপিএফ-এর এই তৎপরতা যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

মানবিকতায় অনন্য নজির:
অপরাধ দমনের পাশাপাশি মানবিক সেবায় আরপিএফ-এর ভূমিকা সর্বজনবিদিত। এই অভিযান চলাকালীন স্টেশনে একা থাকা সাতজন নাবালক শিশুকে (ছয়জন ছেলে ও একজন মেয়ে) উদ্ধার করা হয়েছে। বিপদাপন্ন এই শিশুদের সম্ভাব্য পাচার বা শোষণের হাত থেকে রক্ষা করতে আরপিএফ কর্মীরা তাদের দ্রুত চাইল্ড হেল্প ডেস্ক ও শিশু কল্যাণ কমিটির হাতে তুলে দিয়েছেন। এছাড়াও, স্টেশনে অসুস্থ হয়ে পড়া এক বয়স্ক যাত্রীকে দেখে তড়িঘড়ি প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন জওয়ানরা। পরে অ্যাম্বুলেন্স যোগে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়।

উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানিয়েছেন, আরপিএফ-এর এই ধারাবাহিক অভিযান রেলের সম্পত্তি রক্ষা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তায় বাহিনীর দৃঢ় অঙ্গীকারের বহিঃপ্রকাশ। নজরদারি বাড়ানো, বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিহত করা এবং জরুরি ভিত্তিতে যাত্রীদের পাশে দাঁড়ানোর মতো কর্মকাণ্ডে আরপিএফ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাহিনীর এই অবিচল দায়বদ্ধতা রেলযাত্রাকে আরও সুরক্ষিত ও আরামদায়ক করে তুলছে।