মসজিদ সরানোর ইস্যুতে বিস্ফোরক শুভেন্দু! সিদ্দিকুল্লাকে কড়া ভাষায় জবাব দিলেন বিরোধী দলনেতা

পূর্ব মেদিনীপুরে এক বিশেষ দলীয় বৈঠকের শেষে কলকাতা বিমানবন্দরের ভেতরে অবস্থিত মসজিদ স্থানান্তর নিয়ে মুখ খুললেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের অন্দরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে, তখন শুভেন্দু অধিকারীর এই প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়ে তিনি স্পষ্ট করে দিলেন, জননিরাপত্তা এবং বিমানবন্দরের সুরক্ষার প্রশ্নে কোনো অবস্থাতেই আপস করা হবে না।

কী বললেন বিরোধী দলনেতা?
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে। তিনি বলেন, “বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর আবেগ বা রাজনীতির চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী যা বলছেন, তা তাঁর পুরনো তোষণ রাজনীতিরই অংশ। কিন্তু বর্তমান সরকার এবং প্রশাসন জনস্বার্থ ও জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।” তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো ধর্মীয় স্থান স্থানান্তর করা মানেই কাউকে আঘাত করা নয়, বরং বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল এলাকার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রাথমিক দায়িত্ব।

সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীর সমালোচনার কড়া জবাব:
এর আগে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী মসজিদ সরানোর প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করে এবং এই ঘটনাকে ‘ধর্মীয় আঘাত’ হিসেবে অভিহিত করে সরকারের সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর সেই মন্তব্যকে উদ্দেশ্য করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “সিদ্দিকুল্লা সাহেব সবসময়ই ইস্যু খুঁজছেন। কিন্তু রাজ্যের মানুষ এখন সচেতন। তাঁরা জানেন, বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থে যা যা করার প্রয়োজন, প্রশাসন তা করবেই। কোনো বিশেষ মহলের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না সরকার।”

সুরক্ষা ও আইনি পদক্ষেপের ওপর জোর:
শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বিষয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এবং এভিয়েশন অথরিটির নিয়ম মেনেই এই স্থানান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন যে, আগের সরকারগুলি তোষণের রাজনীতির কারণে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে বাধা সৃষ্টি করেছিল, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই সুযোগ আর নেই। বিরোধী দলনেতার কথায়, “আইন সবার জন্য সমান। কোনো ধর্মীয় স্থান যদি নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তবে তাকে সরানোর আইনত অধিকার প্রশাসনের রয়েছে।”

পূর্ব মেদিনীপুরের এই বৈঠক থেকে শুভেন্দু অধিকারীর এই কড়া বার্তা স্পষ্ট করে দিল যে, আসন্ন দিনগুলোতে বিমানবন্দর মসজিদ বিতর্ক আরও বড় আকার নিতে চলেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ইস্যুতে বিরোধী দলনেতা একদিকে যেমন সরকারের অবস্থানের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তেমনই সংখ্যালঘু তোষণ ইস্যুকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টাকেও খণ্ডন করেছেন। এখন দেখার বিষয়, সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়।