সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকার প্রতারণা! অভিষেকের পিএ সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে নতুন FIR

সরকারি চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রতারণা এবং জমি জালিয়াতির অভিযোগে ফের উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এবার সিআইডি-র স্ক্যানারে উঠে এল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক (PA) সুমিত রায়ের নাম। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে নতুন এফআইআর (FIR)। এই মামলায় সুমিত রায়ের পাশাপাশি অভিযুক্ত হিসেবে নাম রয়েছে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা এবং আরও এক ব্যক্তির।
অভিযোগ, সুমিত রায় সরকারি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়েছেন। পাশাপাশি জমি জালিয়াতির মতো গুরুতর অপরাধেও তাঁর নাম জড়িয়েছে। এই ঘটনার তদন্তে নেমে গত ১৩ জুন শালবনি থানার পুলিশ সুমিত রায়ের সন্ধানে সরাসরি অভিষেকের কালীঘাট রোডের বাড়িতেও হানা দেয়। কিন্তু অভিযুক্তের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই সুমিত রায়ের গোপন আস্তানা খুঁজে বের করতে মরিয়া প্রশাসন।
তদন্তকারীদের আশঙ্কা, সুমিত রায় বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে পারেন। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে আগেই জারি করা হয়েছে লুক আউট সার্কুলার (Look Out Circular)। পুলিশি সূত্রে জানা গেছে, দেশের সমস্ত বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর এবং সীমান্ত এলাকায় এই লুক আউট নোটিস পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি কোনোভাবেই দেশ ছাড়তে না পারেন। এর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।
প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার মতো হেভিওয়েট নেতার নাম এই প্রতারণা চক্রে জড়িয়ে পড়ায় স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে শাসকদল। রাজনৈতিক মহলের মতে, সরকারি চাকরি দেওয়ার নামে এই ধরণের প্রতারণা সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের অমর্যাদা করেছে। সিআইডি এই মামলার প্রতিটি দিক অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। অভিযুক্ত সুমিত রায় বর্তমানে ফেরার হওয়ায় তদন্ত প্রক্রিয়া কিছুটা ধীরগতিতে চললেও, সিআইডি-র নজরদারি এখন তুঙ্গে। বন্দর থেকে বিমানবন্দর—প্রতিটি জায়গায় সতর্কবার্তা পাঠানোর মাধ্যমে তাঁকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এই প্রতারণা চক্রের সঙ্গে আরও কারা জড়িত, সেই রহস্য উন্মোচন করাই এখন সিআইডি-র মূল লক্ষ্য। এই ঘটনা রাজ্যের চাকরিপ্রার্থীদের মনেও গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।