বাংলায় শাসনভার হাতে নিতেই নিজের প্রশাসনিক মেজাজ স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতি দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়ার পাশাপাশি এবার সামাজিক শৃঙ্খলা ফেরাতেও কঠোর হচ্ছে নয়া সরকার। বিশেষ করে মন্দির-মসজিদে উচ্চস্বরে লাউড স্পিকার বাজানো এবং রাস্তায় নামাজ পড়ার মতো দীর্ঘদিনের অভ্যাসে এবার লাগাম টানতে চলেছে প্রশাসন।
নবান্ন সূত্রে খবর, হাইকোর্টের নির্দেশকে হাতিয়ার করে পুলিশকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—কোনো ধর্মীয় আচারের নামেই সাধারণ মানুষের জনজীবন ব্যাহত করা যাবে না। তারস্বরে লাউড স্পিকার বাজানো হলে বা রাস্তার ওপর ধর্মীয় জমায়েত হলে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অর্জুন সিংয়ের বিস্ফোরক দাবি এই বিষয়ে সোমবার এক সাক্ষাৎকারে বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিং সরকারের অনড় অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কঠোর আদেশ জারি করেছেন। কোনো ধরনের দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। পাশাপাশি, রাস্তায় নামাজ পড়ার কোনো অনুমতি আর দেওয়া হবে না।” অর্জুনবাবুর পরামর্শ, ধর্মীয় রীতিনীতি পালনের জন্য নির্দিষ্ট উপাসনালয় বা মসজিদ ব্যবহার করাই শ্রেয়। এতে যেমন যানজট কমবে, তেমনই আদালতের নির্দেশও পালন করা হবে।
সরকারের নয়া পদক্ষেপের মূল লক্ষ্যসমূহ:
আদালতের নির্দেশ পালন: হাই কোর্টের আদেশ মেনেই আজান বা কীর্তনে লাউড স্পিকারের ডেসিবেল নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
রাস্তা দখলমুক্ত রাখা: যাতায়াতের পথে সাধারণ মানুষের অসুবিধা করে কোনো ধর্মীয় সভা বা নামাজ বরদাস্ত করা হবে না।
নাগরিক শৃঙ্খলা: হেলমেটহীন বাইক চালানো থেকে শুরু করে জনপথে বিশৃঙ্খলা রুখতে পুলিশকে বাড়তি সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার শুরু থেকেই ‘ক্লিন অ্যান্ড ক্লিয়ার’ ভাবমূর্তি বজায় রাখতে চাইছে। ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করা নয়, বরং নাগরিক পরিষেবা স্বাভাবিক রাখাই যে প্রশাসনের অগ্রাধিকার, তা অর্জুন সিংয়ের কথাতেই স্পষ্ট।
ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা পুলিশ প্রশাসনের সর্বস্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে এই নয়া কড়াকড়িকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সাধারণ মানুষের যাতায়াত সুগম করতে সরকারের এই ‘বুলডোজার’ নীতি শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।





