রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ভারত! রেকর্ড আমদানিতে তোলপাড় বিশ্ববাজার

বিশ্বের জ্বালানি মানচিত্রে ভারত এখন এক নতুন শক্তিকেন্দ্র। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন মাসে রাশিয়া থেকে রেকর্ড পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি করে চিনকে টেক্কা দিয়ে ভারত এখন দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতায় পরিণত হয়েছে। সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার (CREA)-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জুন মাসে ভারত রাশিয়া থেকে ৪.৫ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের অপরিশোধিত তেল আমদানি করেছে, যা মে মাসের তুলনায় প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি।
আমদানির নিরিখে রেকর্ড
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, জুন মাসে ভারতের মোট রুশ জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানির ৮৩ শতাংশই ছিল অপরিশোধিত তেল, যার আর্থিক মূল্য ৫.৫ বিলিয়ন ইউরো। কেবল অপরিশোধিত তেল নয়, জুন মাসে সামগ্রিকভাবে ভারতের মোট তেল আমদানির পরিমাণ ৫.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশের বৃহৎ শোধনাগারগুলি রাশিয়ার ওপর তাদের নির্ভরতা আগের চেয়ে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
কোন কোম্পানি কতটা তেল কিনছে?
ভারতের তেল সংস্থাগুলির মধ্যে রাশিয়া থেকে আমদানি বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রয়েছে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন। পরিসংখ্যান বলছে:
রিলায়েন্সের জামনগর শোধনাগারে রুশ তেলের সরবরাহ বেড়েছে ১৫০ শতাংশ।
ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের (IOC) পারাদ্বীপ শোধনাগারে আমদানি বেড়েছে ১২৬ শতাংশ।
বিপিসিএল-এর কোচি শোধনাগারে বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৩ শতাংশ।
নায়ারা এনার্জির ভাদিনার শোধনাগার রাশিয়ার থেকে তেল কেনা ৪৬ শতাংশ বাড়িয়েছে।
ভারতের কৌশলী অবস্থান
ভারত শুধু নিজের চাহিদা মেটাতেই রাশিয়া থেকে তেল কিনছে না, বরং সেই তেল পরিশোধন করে তা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশগুলিতে রপ্তানিও করছে। তুরস্ক, ব্রুনাই এবং জর্জিয়ার শোধনাগারগুলিকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে ভারত কৌশলে রুশ তেল থেকে তৈরি পেট্রোলিয়াম পণ্য সেই সব দেশগুলিতে পৌঁছে দিচ্ছে, যারা সরাসরি রাশিয়ার ওপর জ্বালানি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
বিশ্ববাজারের প্রভাব
ভারতের এই বিপুল পরিমাণ ক্রয়ের ফলে রাশিয়া তার তেলের বাজার বজায় রাখতে পারলেও, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় তাদের সামগ্রিক আয় নিয়ে কিছুটা চাপ রয়েছে। CREA-এর তথ্য অনুযায়ী, জুনে রাশিয়ার তেল রপ্তানির পরিমাণ ১৪ শতাংশ বাড়লেও, বিশ্ববাজারে দাম কম থাকায় রাশিয়ার দৈনিক আয় ৮ শতাংশ কমেছে। যদিও সামগ্রিকভাবে রাশিয়ার জীবাশ্ম জ্বালানি রপ্তানি থেকে আয়ের পরিমাণ এখন দৈনিক ৭৩৪ মিলিয়ন ইউরো। ভারতের এই ক্রমবর্ধমান চাহিদা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চিনের আধিপত্যকে যেমন চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে, তেমনই ভারতের শোধনাগারগুলোর সক্ষমতাকেও নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির প্রেক্ষাপটে ভারতের এই সিদ্ধান্ত যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা বলাই বাহুল্য।