রাম মন্দিরে ২০০ কেজি রুপোর ভেলকি? অনুদান দুর্নীতিতে পদত্যাগ ট্রাস্টের শীর্ষ কর্তাদের!

অযোধ্যা রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান নিয়ে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে তোলপাড় দেশ। মন্দিরের কোষাগার থেকে ২০০ কেজি রুপোর ইটের হদিশ না মেলার অভিযোগের মাঝেই বড়সড় রদবদল ঘটল ‘শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র’ ট্রাস্টে। দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায় মাথায় নিয়ে ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পৎ রাই এবং সদস্য অনিল মিশ্র ইস্তফা দিয়েছেন। ট্রাস্টের কোষাধ্যক্ষ গোবিন্দ দেব গিরি তাঁদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছেন।
কী অভিযোগ? ২০২১ সালের ২৫ জানুয়ারি ‘বিশ্ব সিন্ধি সেবা সঙ্গম’-এর একটি প্রতিনিধি দল মন্দির নির্মাণের জন্য ২০০টি রুপোর ইট (প্রতিটি ১ কেজি ওজনের) দান করেছিল। প্রতিটি ইটে খোদাই করা ছিল আরাধ্য দেবতা ‘ঝুলেলাল’-এর প্রতিকৃতি। জুনাগড়ের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কালুভাই সুখওয়ানি জানান, দান করার সময় চম্পৎ রাই রসিদ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ৫ বছরেও কোনো প্রমাণপত্র দেওয়া হয়নি। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দাতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সিট (SIT) তদন্ত ও গ্রেফতার: অনুদান তছরুপের অভিযোগ ওঠার পর উত্তরপ্রদেশ সরকার ঘটনার তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করে। গত ২৩ জুন সিট তাদের প্রাথমিক রিপোর্ট পেশ করে। ২৫ জুন রাতে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অযোধ্যা পুলিশ ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন রামশঙ্কর যাদব (টিন্নু), অনুকল্প মিশ্র, অবিনাশ শুল্কা, করুণেশ পাণ্ডে, মনীষ যাদব, লবকুশ মিশ্র, রাম শঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। এরা সবাই মন্দিরের নগদ অর্থ গোনা ও মূল্যবান সামগ্রী গ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন।
ট্রাস্টের বক্তব্য: গোবিন্দ দেব গিরি এক বিবৃতিতে বলেন, “অযোধ্যায় যা ঘটছে তাতে আমরা স্তম্ভিত এবং গভীরভাবে দুঃখিত। আমরা রাম ভক্তদের আশ্বস্ত করছি, তদন্ত স্বচ্ছ হবে এবং দোষীদের কঠিনতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।” তিনি আরও দাবি করেন, ভক্তদের দান করা গয়না ও সামগ্রী ট্রাস্টের কাছে সুরক্ষিত আছে। তবে তদন্তাধীন বিষয়ে তাঁর এই দাবি ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপ: এই দুর্নীতির ঘটনায় কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলো সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি তুলেছে। ভক্তদের বিশ্বাসের মর্যাদা রক্ষা এবং মন্দিরের স্বচ্ছতা বজায় রাখা নিয়ে ট্রাস্ট এখন বড় চ্যালেঞ্জের মুখে।