রাম মন্দিরের অনুদান চুরির প্রতিবাদে তুলকালাম সংসদ চত্বরে! প্রতীকী দানবাক্স হাতে বিক্ষোভ সমাজবাদী পার্টির!

রাম মন্দিরের জন্য সাধারণ মানুষের দেওয়া পবিত্র অনুদান ও সোনা-রুপার সামগ্রী চুরির প্রতিবাদে এবং তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সোমবার সংসদ চত্বরে প্রবল বিক্ষোভ দেখাল বিরোধী দলগুলি। এদিন এই অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে সামিল হয়ে সমাজবাদী পার্টির (এসপি) রাজ্যসভার সাংসদ জয়া বচ্চন একটি প্রতীকী দানবাক্সে টাকা রেখে অভিনব কায়দায় অনুদান চুরির বিরুদ্ধে সোচ্চার হন। ওই প্রতীকী বাক্সটিতে রাম মন্দিরের অনুদান চুরির ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি স্পষ্ট বার্তা সংবলিত পোস্টারও সাঁটানো ছিল। এই পুরো ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লির জাতীয় রাজনীতিতে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
সংসদ চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসপি সাংসদ ডিম্পল যাদব কেন্দ্রীয় সরকারকে চরম ভাষায় আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগের সুর চড়িয়ে বলেন, “এই গোটা ঘটনার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষের আসল নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া। যেভাবে সাধারণ মানুষ ও বিশিষ্টজনদের দেওয়া অনুদান চুরি হয়েছে এবং রাম জন্মভূমির নামে জমি কেলেঙ্কারি সংঘটিত হয়েছে, তার জন্য সরাসরি দায়ী এই সরকার। আজ পর্যন্ত এই গুরুতর আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় একজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধেও কেন পুলিশ এফআইআর দায়ের করল না? সরকার কেন অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে?” তিনি অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে প্রশ্ন তোলেন যে, ভক্তদের ভক্তি, বিশ্বাস এবং পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে ভগবান শ্রীরামের চরণে নিবেদন করা অর্থ, সোনা, রুপা এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতব সামগ্রী শেষ পর্যন্ত কোথায় এবং কার পকেটে গেল?
ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষের কথা তুলে ধরে ডিম্পল যাদব আরও দাবি করেন যে, সরকার মানুষের ক্ষোভ ধামাচাপা দিতে চাইছে। তিনি তীব্র কটাক্ষ করে বলেন যে, ‘সনাতন ধর্মকে অবমাননা করার’ ভুয়ো অভিযোগে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, পূর্ণিয়ার সাংসদ পাপ্পু যাদব এবং এসপি সাংসদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি যে সমস্ত এফআইআর দায়ের করা হয়েছে, তা আদতে বিরোধী দলগুলির উত্থাপিত দুর্নীতির মূল ইস্যু থেকে সাধারণ মানুষের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল মাত্র। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের বিরুদ্ধে চরম হতাশা, ক্ষোভ এবং মোহভঙ্গের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, এই পুরো বিতর্ক প্রসঙ্গে মুখ খুলে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা রাজীব শুক্লা কেন্দ্রীয় সরকারকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বেশ কিছু অত্যন্ত সংবেদনশীল প্রশ্ন তোলেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কেন দেশে একটি স্বাধীন ‘সনাতন বোর্ড’ গঠন করা হচ্ছে না? আপনারা কেন সমস্ত জায়গায় কেবল নিজেদের পছন্দের লোকজনকে বসিয়ে রাখতে চান? বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP) বা নির্দিষ্ট সংগঠনের সদস্যরা কেন মন্দির ট্রাস্ট চালাবে? এর পেছনে তাদের দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থ ঠিক কী রয়েছে?” সবমিলিয়ে, রাম মন্দির অনুদান বিতর্ক এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক জলঘোলায় জাতীয় রাজনীতি এখন চরম পর্যায়ে উত্তপ্ত।