রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। রাজ্যে বিজেপি সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর আজ বিধানসভায় প্রথম পা রাখলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তাঁর এই প্রবেশ সাধারণ কোনো নেতার মতো ছিল না; বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সংসদ ভবনে প্রবেশের সেই আইকনিক মুহূর্তের কথা মনে করিয়ে দিলেন তিনি। বিধানসভার সিঁড়িতে নতজানু হয়ে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করে তবেই ভেতরে প্রবেশ করলেন রাজ্যের নতুন অভিভাবক।
এর আগে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের দিন প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদি মঞ্চে নতজানু হয়ে বাংলার মানুষের আশীর্বাদ প্রার্থনা করেছিলেন। এদিন বিধানসভার সিঁড়িতে শুভেন্দু অধিকারীর সেই একই ভঙ্গি রাজ্য রাজনীতিতে এক গভীর তাৎপর্য বহন করছে। সমর্থকদের মতে, এটি ক্ষমতার দম্ভ নয়, বরং গণতন্ত্রের পবিত্র মন্দিরের প্রতি তাঁর শ্রদ্ধা ও নিষ্ঠার বহিঃপ্রকাশ।
আজ বিধানসভায় বিধায়কদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামীকাল পর্যন্ত। এদিন ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবে প্রথম শপথ গ্রহণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভা চত্বরে তাঁর জন্য রাজকীয় আয়োজন করা হয়েছিল। চারিদিকে বিছানো ছিল লাল কার্পেট। মুখ্যমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে দেওয়া হয় ‘গার্ড অফ অনার’। বিধানসভায় ঢুকেই মুখ্যমন্ত্রী সবার আগে শ্রদ্ধা জানান সংবিধানের প্রণেতা বি আর আম্বেদকরের মূর্তিতে। সেখানে মাল্যদান করার পরই তিনি বিধানসভার মূল ভবনের দিকে এগিয়ে যান এবং সেই আবেগঘন মুহূর্তটি তৈরি হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ যখন একদিকে রাজ্যবাসীর নজর কেড়েছে, ঠিক তখনই বিধানসভা চত্বরে দেখা গেল অন্য এক চিত্র। আগের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ সরকারের তীব্র সমালোচনা করে এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে মিষ্টিমুখ করাতে প্যাকেট প্যাকেট মিষ্টি হাতে হাজির হলেন বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তিনি স্পষ্ট জানান, বাংলার মানুষ এক স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত সরকারের আশায় এই পরিবর্তন এনেছে।
শুভেন্দু অধিকারীর এই শপথ গ্রহণ ও বিধানসভায় প্রবেশের মধ্য দিয়ে বাংলায় এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হলো। এখন দেখার, এই ‘নতজানু’ সেবক হিসেবে তিনি আগামী দিনে বাংলার শাসনভারকে কোন উচ্চতায় নিয়ে যান।





