রাতেও খোলা থাকবে সরকারি অফিস! শপিং মল থেকে রেস্তোরাঁ—বদলে যাচ্ছে রাজ্যের চিত্র?

রাজ্যের কর্মসংস্কৃতি ও পরিষেবা ব্যবস্থায় এক আমূল পরিবর্তনের জল্পনা দানা বেঁধেছে। জোর গুঞ্জন উঠেছে যে, রাজ্য সরকার এবার নাইট ইকোনমি বা নৈশ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে একগুচ্ছ নতুন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। সূত্রের খবর, মানি ফ্লো বা অর্থের প্রবাহ বাড়াতে রেস্তোরাঁ ও শপিং মলসহ শহরের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাতের বেলায় খোলা রাখার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা কেবল ব্যবসা-বাণিজ্যকেই গতিশীল করবে না, বরং নাগরিক পরিষেবার মানচিত্রকেও পুরোপুরি বদলে দেবে।
এই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সরকারি দপ্তরের কাজের সময়সীমা। খবর রটেছে যে, সরকারি কর্মীদেরও এবার থেকে রাতের শিফটে ডিউটি করতে হতে পারে। মূলত জমে থাকা ফাইলের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা এবং জনসাধারণের পরিষেবা প্রদানে যাতে কোনো বিলম্ব না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই নাকি এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের অন্দরমহলের খবর অনুযায়ী, সরকারি কর্মীদের দুটি শিফটে কাজ করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছে। রাতে অফিস খোলা থাকলে সরকারি কাজকর্মের গতি বহুগুণ বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
নৈশ অর্থনীতির এই ধারণাকে বাস্তব রূপ দিতে হলে পরিবহন ব্যবস্থাতেও যে ব্যাপক পরিবর্তন আনতে হবে, তা বলাই বাহুল্য। সরকারি সূত্রের ইঙ্গিত, রাতের বেলা সবকিছু খোলা থাকলে গণপরিবহন ব্যবস্থাও সচল রাখা হবে। রাস্তাঘাটে বাস, অটো এবং ট্যাক্সির সংখ্যা বাড়ানো হবে, যাতে নাইট শিফটে কাজ করা সাধারণ মানুষ এবং সরকারি কর্মচারীদের যাতায়াতের কোনো সমস্যা না হয়। মূলত, শহরের জীবনযাত্রাকে সার্বক্ষণিক সচল রাখাই এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।
তবে, এই পুরো বিষয়টি বর্তমানে জল্পনার স্তরেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত এই ধরনের কোনো নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। কোনো অফিসিয়াল নোটিশ বা সরকারি নির্দেশিকাও এই দাবির সত্যতা প্রমাণ করতে সক্ষম হয়নি। ফলে, সরকারি দপ্তরে দুই শিফটে কাজের বিষয়টি আদৌ বাস্তব রূপ নেবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে সংশয় রয়েছে। বিরোধীরা ইতিমধ্যেই একে ‘জনস্বার্থহীন সিদ্ধান্ত’ বলে কটাক্ষ শুরু করেছে, আবার অনেকে মনে করছেন এটি অর্থনীতির জন্য একটি সাহসী পদক্ষেপ হতে পারে।
এই সংবাদের সত্যতা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে—এত বড় একটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সরকার কি সবদিক বিচার-বিবেচনা করবে? সরকারি কর্মীদের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে রাতের বেলা শহরের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা—সবই একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকারি দপ্তরগুলো থেকে এই বিষয়ে কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি, তবুও এই সংবাদের ছড়িয়ে পড়া এক ধরনের চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। আগামী দিনে সরকারি স্তরে এই বিষয়ে কোনো স্পষ্ট নির্দেশিকা আসে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। আপাতত, এই খবরটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের চেয়ে আলোচনার খোরাক হিসেবেই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে।