রাতেই রণক্ষেত্র মধ্যমগ্রাম! প্রিয় চন্দ্রনাথকে হারিয়ে কান্নায় ভাঙলেন শুভেন্দু, চরম হুঁশিয়ারি বিরোধী দলনেতার

উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে এক হাড়হিম করা হত্যাকাণ্ডের সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্তসহায়ক এবং প্রাক্তন বায়ুসেনা কর্মী চন্দ্রনাথ রথকে প্রকাশ্য রাস্তায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। ঘাতকদের নিখুঁত পরিকল্পনা এবং অপারেশনের ধরন দেখে তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, এর পিছনে কোনও প্রশিক্ষিত শার্প শ্যুটারের হাত রয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার সন্ধ্যায়। জানা যাচ্ছে, চন্দ্রনাথ রথ তাঁর গাড়ি নিয়ে মধ্যমগ্রামের একটি নির্জন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তদন্তে জানা গেছে, ঘাতকরা একটি নিশান (NISSAN) গাড়িতে চেপে দীর্ঘক্ষণ তাঁর পিছু নিচ্ছিল। দোহারিয়া শৈলেশ নগরের পেয়ারা বাগান এলাকায় ওত পেতে ছিল আততায়ীরা। চন্দ্রনাথের গাড়িটি আসবামাত্রই ঘাতকরা সেটির পথ আটকে দাঁড়ায়। এরপরই শুরু হয় তাণ্ডব। স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র থেকে একের পর এক প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। চন্দ্রনাথের বুক, পেট ও মাথা লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে ৪টি গুলি লাগে। বাদ যাননি গাড়ির চালকও, তাঁর শরীরেও ৩টি গুলি লেগেছে। বর্তমানে তিনি ভেন্টিলেশনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই গভীর রাতে মধ্যমগ্রামে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে ছিলেন বিজেপির একঝাঁক বিধায়ক। নিজের দীর্ঘদিনের ছায়াসঙ্গীর নিথর দেহ দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন শাসকদলের দিকে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরেই তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই কর্মীকে সরিয়ে দেওয়া হলো। হাসপাতাল চত্বরে দাঁড়িয়ে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, “এই খুনের শেষ দেখে ছাড়ব। কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্ত প্রয়োজন।”

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য। খুনের পর দুষ্কৃতীরা রাজারহাটের দিকে পালানোর সময় একটি বাইক ব্যবহার করেছিল যেটিতে শিলিগুড়ির ভুয়ো নম্বর প্লেট লাগানো ছিল। এমনকি যে চারচাকা গাড়িটি পুলিশ আটক করেছে, সেটির নম্বর প্লেটটিও ছিল অন্য একটি গাড়ির ‘ক্লোন’। অর্থাৎ, পুলিশকে বিভ্রান্ত করার সব রকম ব্যবস্থা আগে থেকেই করে রাখা হয়েছিল। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাতেই এলাকায় যান রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে বুলেটের খোল ও রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘাতকদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় গোটা রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে পৌঁছেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy