বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়ায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জনমানসে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে— কে এই চন্দ্রনাথ? কেনই বা তাঁকে সরাতে এত বড় ঝুঁকি নিল খুনিরা?
বায়ুসেনা থেকে রাজনীতির ময়দান: এক রোমাঞ্চকর সফর ৪২ বছর বয়সী চন্দ্রনাথ রথের আদি বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুরে। পেশাগত জীবনে তিনি ছিলেন একজন গর্বিত প্রাক্তন বায়ুসেনা আধিকারিক। ২০১৯ সালে, যখন শুভেন্দু অধিকারী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার দাপুটে সদস্য, ঠিক সেই সময় থেকেই তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন চন্দ্রনাথ। শুভেন্দু তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অনেক অনুগামী দূরে সরে গেলেও, ছায়ার মতো নেতার পাশেই ছিলেন এই প্রাক্তন সেনাকর্মী।
শুভেন্দুর ‘বার্তা বাহক’ ও ভবানীপুরের সেই প্রতিবাদ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের কাছে চন্দ্রনাথ ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। অমায়িক ব্যবহারের জন্য পরিচিত চন্দ্রনাথই ছিলেন শুভেন্দুর কাছে পৌঁছানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তবে তাঁর সাহসিকতার পরিচয় পাওয়া যায় গত ৩০ এপ্রিল। ভবানীপুরের শাখাওয়াত মেমোরিয়াল হাই স্কুলের স্ট্রংরুমে যখন স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৌঁছেছিলেন, তখন শুভেন্দু অধিকারী কাঁথিতে থাকলেও রুখে দাঁড়িয়েছিলেন চন্দ্রনাথ। গণনাকেন্দ্রের বাইরে দাঁড়িয়ে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়েছিলেন তিনি, যার জেরে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন।
সেই কালরাত: যেভাবে ছক কষে খুন পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে বুধবার রাতের সেই হাড়হিম করা বিবরণ। চন্দ্রনাথ তখন বিধানসভা থেকে একটি সাদা রঙের স্করপিও গাড়িতে ফিরছিলেন। অভিযোগ, দোহারিয়া এলাকায় একটি ধূসর রঙের নিসান মাইক্রা গাড়ি হঠাতই তাঁর পথ আটকে দেয়। গাড়িটি থামতেই পিছন থেকে একটি মোটরবাইকে আসা দুষ্কৃতীরা অতি কাছ থেকে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই নিথর হয়ে যায় শুভেন্দুর এই ‘বিশ্বস্ত সেনাপতি’-র দেহ।
তদন্তে কোন রহস্য? প্রাথমিক ফরেন্সিক রিপোর্ট এবং পারিপার্শ্বিক তথ্য বলছে, এটি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় করা একটি ‘টার্গেট কিলিং’। যে সাহসিকতার সঙ্গে তিনি ভবানীপুরে তৃণমূল সুপ্রিমোর কর্মসূচির বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন, তার সঙ্গে এই খুনের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।
পূর্ব মেদিনীপুরের চণ্ডীপুর থেকে মধ্যমগ্রামের দোহারিয়া— এক লড়াকু প্রাক্তন সেনার রাজনৈতিক যাত্রা এভাবে বুলেটে শেষ হয়ে যাওয়ায় শোকস্তব্ধ গোটা রাজ্য বিজেপি।





