‘শুভেন্দুর PA-কে খুন আসলে মোদীকে বার্তা?’ বারাসতে বিস্ফোরক শমীক ভট্টাচার্য!

বিজেপি নেতা তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজ্য রাজনীতি। এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে বারাসত হাসপাতালে পৌঁছে যান বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। সেখান থেকেই তিনি শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এবং রাজ্যের ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা নিয়ে একের পর এক বিস্ফোরক তোপ দাগেন।

শমীক ভট্টাচার্য এদিন কড়া ভাষায় জানান, “গতকালের এই ভয়াবহ ঘটনা প্রমাণ করে দিচ্ছে যে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা এই মুহূর্তে কোন অতলে দাঁড়িয়ে রয়েছে। গত ১৫ বছর ধরে তৃণমূল কংগ্রেস এই রাজ্যের প্রশাসনকে কার্যত ধ্বংস করে দিয়েছে। পুলিশের রাজনীতিকরণ সম্পূর্ণ হয়েছে। অপরাধীদের মন থেকে আজ আইনের ভয় মুছে গিয়েছে; তারা মনে করছে পশ্চিমবঙ্গ তাদের জন্য এক স্বর্গরাজ্য।”

এদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে বারাসত ও মধ্যমগ্রাম অঞ্চলকে অপরাধের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে দেগে দিয়েছেন শমীক। তাঁর দাবি, এই এলাকাগুলি বর্তমানে জাল পরিচয়পত্র তৈরির প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “জাল রেশন কার্ড, জাল ভোটার কার্ড (EPIC) তৈরির কাজ অবাধে চলছে এই অঞ্চলে। এমনকি ভারতের যে প্রান্তেই কোনো অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ছে, জেরা করলে জানা যাচ্ছে তারা তাদের নথি এই বারাসত বা মধ্যমগ্রাম থেকেই সংগ্রহ করেছে।”

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দাবিটি তিনি করেন এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য উদ্দেশ্য নিয়ে। শমীক প্রশ্ন তোলেন, এই খুনের ঘটনা কি আসলে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আসন্ন সফরকে লক্ষ্য করে কোনো গোপন বার্তা? তাঁর কথায়, “প্রধানমন্ত্রী দু’দিন পর রাজ্যে আসছেন, তার ঠিক আগেই এমন অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা কেন? একজন অরাজনৈতিক ব্যক্তি, যিনি প্রাক্তন সেনাকর্মী এবং বর্তমানে একজনের আপ্ত সহায়ক, তাঁকে এই পরিকল্পিতভাবে খুন করার মানে কী? এটা স্পষ্টতই প্রতিহিংসামূলক রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড।”

শেষে তৃণমূলের উদ্দেশে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে শমীক বলেন, “আমরা কি ক্ষমতাহীন? সিংহ স্থবির হয়ে আছে বলে যদি কেউ মনে করে তাকে পদাঘাত করবে, তবে তারা মস্ত বড় ভুল করছে। আমরা তৃণমূলের ভাষায় কথা বলতে জানি এবং বলতে পারি। যদিও আমরা সেই পথে হাঁটতে চাই না, তবুও আমাদের ধৈর্যকে যেন দুর্বলতা না ভাবা হয়।”

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy