বর্তমান ডিজিটাল যুগে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সিংহভাগ কাজই এখন অনলাইন নির্ভর। ব্যাংকিং, ইন্স্যুরেন্স থেকে শুরু করে সরকারি ই-টেন্ডার—সব ক্ষেত্রেই এখন কাগজের বদলে ডিজিটাল নথিপত্রের রমরমা। আর এই ডিজিটাল নথির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সেটির সত্যতা প্রমাণে সবথেকে বড় হাতিয়ার হয়ে উঠেছে ইলেকট্রনিক সিগনেচার বা ই-সিগনেচার (E-Sign)। সাধারণ পিডিএফ ফাইলের থেকে ই-ডকুমেন্ট আলাদা হওয়ার মূল কারণ হলো এর বৈধতা, যা এই বিশেষ সিগনেচারের মাধ্যমেই নিশ্চিত করা হয়।
ই-সিগনেচার আসলে কী? এটি কি কেবল কম্পিউটার স্ক্রিনে আপনার হাতে লেখা সইয়ের একটি ছবি? আজ্ঞে না! এটি মূলত একটি অত্যন্ত উন্নত এনক্রিপটেড ক্রিপটোগ্রাফিক কী (Key)। যখন কোনো ডিজিটাল ডকুমেন্টে ই-সাইন করা হয়, তখন সেটি একটি অডিট ট্রায়াল তৈরি করে। ফলে ওই ফাইলটি সম্পূর্ণ নিরাপদ হয়ে যায়। হ্যাকাররা চাইলেই সেই ডকুমেন্টের তথ্য চুরি বা পরিবর্তন করতে পারে না। প্রবীণ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রাকেশ ছত্তার এই বিষয়ে বলেন, “ডিজিটাল সিগনেচার যুক্ত করার পর ডকুমেন্টটি সাধারণত লক হয়ে যায়। যদি সই করার পর কেউ মূল তথ্যে কোনো পরিবর্তন করার চেষ্টা করে, তবে আগের সিগনেচারটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যাবে।”
ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০ (IT Act 2000)-এর অধীনে ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট (DSC) প্রদান করা হয়। ইমুদ্রা (eMudhra) বা ভি-সাইনের মতো বেশ কিছু লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থা এই সার্টিফিকেট দেয়। তবে সবোর্পরি এগুলি ভেরিফাই করার ক্ষমতা থাকে একমাত্র ‘কন্ট্রোলার অফ সার্টিফাইং অথরিটিজ’ (CCA)-এর হাতে। এর মেয়াদ সাধারণত এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত হয় এবং খরচ ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করে।
কীভাবে পাবেন এই ই-সিগনেচার সার্টিফিকেট?
১. অথোরিটি নির্বাচন: প্রথমে CCA লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো সংস্থা (যেমন: eMudhra, VSign) বেছে নিন।
২. ধরণ নির্বাচন: আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী Class 3 সার্টিফিকেট বেছে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
৩. আবেদন ও নথি: পোর্টালে নাম, ইমেল এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন। এরপর আধার কার্ড, প্যান কার্ড বা পাসপোর্টের মতো প্রয়োজনীয় নথির স্ক্যান কপি ও নিজের ছবি আপলোড করুন।
৪. পেমেন্ট ও ভেরিফিকেশন: ফি জমা দেওয়ার পর আপনার মোবাইল ও ইমেলে আসা ওটিপি (OTP) দিয়ে যাচাই করুন। এরপর একটি ভিডিও ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।
৫. ডাউনলোড: সব প্রক্রিয়া সফল হলে আপনার ইমেলে অনুমোদন আসবে। এরপর আপনি আপনার ডিজিটাল সিগনেচারটি ডাউনলোড করতে পারবেন বা একটি USB টোকেনে সংগ্রহ করতে পারবেন।





