ভোটের সকালে এক নজিরবিহীন টানটান উত্তেজনার সাক্ষী থাকল খাস কলকাতা তথা হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র ভবানীপুর। চিরচেনা ছক ভেঙে বুধবার সাতসকালেই রাস্তায় নেমে পড়লেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হয়ে মন্দিরে পুজো দিয়ে দিন শুরু করলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
সকাল থেকেই অ্যাকশনে মমতা, রাতভর ‘আতঙ্কে’ তৃণমূল!
সাধারণত দুপুরের দিকে ভোট দিতে বেরোলেও, আজ সকালে চেতলা এলাকা পরিদর্শনে বের হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, গতরাত থেকেই এলাকায় ‘তাণ্ডব’ চালিয়েছে বিরোধীরা। মমতার বিস্ফোরক দাবি:
“ববির (ফিরহাদ হাকিম) স্ত্রী ঘরে ছিল, মাঝরাতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা দিচ্ছে! মহিলারা আতঙ্কিত। আমি আর অভিষেক কাল সারা রাত ঘুমাননি, পরিস্থিতির ওপর নজর রেখেছিলাম।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল কাউন্সিলর অসীম বসু ও তাঁর স্ত্রীকে রাত দেড়টার সময় হেনস্থা ও ধাক্কাধাক্কি করা হয়েছে।
শুভেন্দুর তূণমূলে শানিত বাণ: “বিড়াল গাছে ওঠে না!”
খিদিরপুরের হনুমান মন্দিরে পুজো দিয়ে এদিন আত্মবিশ্বাসী মেজাজে ধরা দেন শুভেন্দু অধিকারী। মমতার বুথ পরিদর্শনকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ঠেলায় না পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না।” শুভেন্দুর দাবি, ভবানীপুরের মানুষ এবং বিশেষ করে হিন্দু ভোটাররা ঢেলে বিজেপিকে ভোট দিচ্ছেন। কমিশন শান্তিপূর্ণ ভোটের ব্যবস্থা করেছে বলেও তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অভিষেকের তোপ: “দ্বিতীয় দফাতেই বিজেপির দফারফা”
মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিয়ে বেরিয়েই নির্বাচন কমিশন ও বিশেষ অবজার্ভারদের একহাত নিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ:
বিভিন্ন জায়গায় ভোটারদের হুমকি ও হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে।
স্পেশাল অবজার্ভাররা নিয়ম বহির্ভূতভাবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রেইড করছেন।
অভিষেক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “এসব করে কোনো লাভ হবে না। তৃণমূল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ফিরবে এবং দ্বিতীয় দফাতেই বিজেপির দফারফা হবে।”





