শ্যামপুকুর থেকে কাঁচরাপাড়া: দিকে দিকে বিজেপি-তৃণমূল সংঘাত, কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনেই চলল লাঠি উঁচিয়ে তাড়া!

রাজ্যে চলছে ভোটযুদ্ধ, আর সেই সঙ্গেই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বীজপুর বিধানসভার কাঁচরাপাড়া থেকে শুরু করে কলকাতার শ্যামপুকুর—সকাল থেকেই একাধিক বুথে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়াল তৃণমূল ও বিজেপি। কোথাও ‘বুথ জ্যাম’-এর অভিযোগ, তো কোথাও ‘স্লো ভোটিং’ নিয়ে বিক্ষোভ। সব মিলিয়ে গণতন্ত্রের উৎসবে হিংসার ছায়া স্পষ্ট।

কাঁচরাপাড়ায় কাউন্সিলর বনাম প্রার্থীর হাতাহাতি:
সবচেয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় বীজপুর বিধানসভার কাঁচরাপাড়া পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। অভিযোগ, বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে অনুগামীদের নিয়ে জমায়েত করেছিলেন তৃণমূল কাউন্সিলর কল্যাণ কর। সেখানে বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস পৌঁছতেই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। প্রার্থীর অভিযোগ, বহিরাগতদের নিয়ে বুথ দখলের চেষ্টা করছিলেন কাউন্সিলর। এই নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে শুরু করে হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায় বিষয়টি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে শেষ পর্যন্ত নির্দল প্রার্থীর সঙ্গেও ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন তৃণমূল কাউন্সিলর। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী এসে ভিড় সরিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পাল্টাধারায় তৃণমূলের দাবি, বিজেপি প্রার্থীই মহিলাদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করেছেন, যার প্রতিবাদ করেছেন কাউন্সিলর।

শ্যামপুকুরে লাঠি উঁচিয়ে তাড়া:
অন্যদিকে, কলকাতার শ্যামপুকুরে ১০১ ও ১০২ নম্বর বুথে বিজেপি প্রার্থী পূর্ণিমা চক্রবর্তীকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। প্রার্থীর অভিযোগ ছিল, বুথে ইচ্ছাকৃতভাবে ‘স্লো ভোটিং’ করানো হচ্ছে। এই অভিযোগ তুলতেই তাঁকে ঘিরে ধরে স্লোগান দিতে শুরু করে শাসকদলের কর্মী-সমর্থকরা। পরিস্থিতি সামলাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে লাঠি উঁচিয়ে বিক্ষোভকারীদের তাড়া করতে দেখা যায়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই এলাকাতেই ব্যাপক পুলিশি টহল চলছে। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy