রাজস্থানের সিকার জেলার দন্তরামগড় এলাকায় ঘটে যাওয়া এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনায় রীতিমতো স্তম্ভিত এলাকাবাসী। বিয়ের মাত্র সাত মাস পর যখন এক যুবক যমজ সন্তানের বাবা হলেন, তখন তিনি সেটিকে ‘প্রকৃতির অলৌকিক ঘটনা’ নয়, বরং নিজের জীবনের চরম বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে চিহ্নিত করলেন। এটি এমন এক ধূর্ত বধূর গল্প, যে নিজের প্রথম বিয়ের কথা গোপন করে দ্বিতীয়বার বিয়ের পিঁড়িতে বসে স্বামীকে সর্বস্বান্ত করেছে।
পাছার গ্রামের বাসিন্দা ভুক্তভোগী যুবকের অভিযোগ, ২০২৫ সালের ১লা মার্চ জয়পুরে ধুমধাম করে বিমলার (নাম পরিবর্তিত) সঙ্গে তাঁর বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে কনের পরিবার দাবি করেছিল যে বিমলা অবিবাহিত। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েক দিন পর থেকেই শুরু হয় আসল খেলা। নতুন বউ বারবার বাপের বাড়ি যাওয়ার জন্য জেদ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত ২০শে জুন বাপের বাড়িতে বিয়ের অজুহাত দিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার সোনা ও রুপার গয়না নিয়ে চম্পট দেয় সে। এরপর আর ফিরে আসেনি।
ঘটনার সবচেয়ে বড় মোড় আসে গত ১৬ই অক্টোবর, যখন ওই মহিলা যমজ সন্তানের জন্ম দেন। বিয়ের মাত্র সাত মাসের মাথায় সন্তানের জন্ম দেওয়ায় স্বামীর মনে সন্দেহের দানা বাঁধে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত শুরু করতেই চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড়! জানা যায়, বিমলা আসলে ২০১৬ সালে রাজসামন্দের এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রথমবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। অর্থাৎ, পূর্বের বিয়ের কথা গোপন রেখে এবং অন্তঃসত্ত্বা থাকাকালীনই তিনি এই যুবককে প্রতারণা করে বিয়ে করেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী স্বামী সিকারের দন্তরামগড় থানায় স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। এই প্রতারণা চক্রে আর কারা জড়িত, তা জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে। লক্ষাধিক টাকার গয়না উদ্ধার ও অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।





