বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে বিরল দৃশ্য। সাধারণত ভোটের সকালে বাড়ির বাইরে পা রাখেন না তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু এবার যেন সব সমীকরণ বদলে দিলেন তিনি। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল সাতটা কী সাড়ে সাতটা, তখনই ভবানীপুরের রাস্তায় নেমে পড়লেন তৃণমূল নেত্রী। জানিয়ে দিলেন, এবার দলনেত্রী হিসেবে সারাদিন রাজপথেই থাকবেন তিনি। তবে ময়দানে নামতেই তাঁর গলায় ঝরে পড়ল ক্ষোভ।
ব্যানার বিতর্ক ও শমীকের কটাক্ষ:
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁর নিজের কেন্দ্রেই তাঁর ব্যানার নামিয়ে দেওয়া হচ্ছে, ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে দলীয় পোস্টার। এই অভিযোগ কানে যেতেই তীব্র শ্লেষ ঝরল বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের গলায়। তিনি বলেন, “রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর ব্যানার খুলে দেওয়া হচ্ছে? কে খুলছে? খুব অন্যায়! এই কাজ তো তৃণমূলেরই সংস্কৃতি। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যানার খোলার সাহস কার আছে? আসলে সব খেলা শেষ। আগে বাজার করিয়েছি, বাড়ি বাড়ি ঘুরিয়েছি, এখন বুথে বুথে ঘোরাচ্ছি।”
পুলিশি অতিসক্রিয়তা ও মমতার তোপ:
এদিন ভবানীপুরের তৃণমূল প্রার্থী অভিযোগ করেন, একঝাঁক ভিনরাজ্যের অবজার্ভার এবং পুলিশ অফিসার নিয়ে আসা হয়েছে যারা বাংলাকে চেনেন না। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের জনপ্রিয় কাউন্সিলর ‘বাবাই’-এর বাড়িতে রাত ২টোর সময় সিআরপিএফ হানা দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, “রাজ্য পুলিশ বা স্থানীয় পুলিশকে ছাড়াই সিআরপিএফ গিয়ে বাড়িতে আক্রমণ করেছে।”
শুভেন্দুর পাল্টি জবাব:
মমতার এই রণংদেহী মেজাজকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “এবারের ভোট অন্যরকম। আগে গুন্ডাবাহিনীরা এলাকা দখল করে রাখত, বাইক বাহিনীর দাপাদাপি চলত। এবার রাস্তা শুনশান, মানুষ নির্ভয়ে ভোট দিচ্ছে। নির্বাচন কমিশন পরিবেশ বদলে দিয়েছে, এটা গণতন্ত্রের মহোৎসব।”
ভবানীপুরের এই মেগা-ফাইটে কার পাল্লা ভারী, জনতা কাকে বেছে নিল— তার উত্তর মিলবে আগামী ৪ঠা মে।





