“ইডি নয়, আসল ভয় অভিষেক!” বিস্ফোরক মদন মিত্র, কামারহাটির বিধায়কের দলত্যাগে কাঁপছে রাজ্য রাজনীতি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সৈনিক মদন মিত্রের শিবির বদলের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বুধবার বিধানসভায় গিয়ে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দেওয়ার পর কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র তাঁর দলবদল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো ‘সরি’ মেসেজের নেপথ্যে আসল কারণ স্পষ্ট করলেন। মদন মিত্রের বিস্ফোরক দাবি, ইডি নয়, বরং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ভয়’ থেকেই তিনি এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।

মঙ্গলবার ইডির সমন পাওয়ার পর থেকেই মদনের শিবির বদল নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে ছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশ ভেবেছিল, কেন্দ্রীয় এজেন্সির চাপ থেকে বাঁচতেই মদন মিত্র এই পথে হেঁটেছেন। তবে সেই জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে মদন মিত্র বুধবার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি ইডির ভয়ে দল ছাড়িনি। আমার ভয় ছিল এবি (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়)-কে নিয়ে। ইডি ধরলে তবু কথা বলে জিজ্ঞাসাবাদের সুযোগ পাওয়া যায়, কিন্তু অভিষেক কখন কী করবেন, তা বোঝা দায়।”

দীর্ঘ ২৭ মাস জেল খাটার স্মৃতি রোমন্থন করে তিনি আরও বলেন, “জেল জীবনেও আমি দলের বিরুদ্ধে কোনোদিন একটি শব্দও উচ্চারণ করিনি। কিন্তু দলের অন্দরে বর্তমানে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আর থাকা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।” সেই সঙ্গে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “প্রমাণ করে দেখান মদন মিত্র টাকা বা গয়না নিয়ে চাকরি দিয়েছে। আমি যেকোনো তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করতে রাজি।”

দলবদলের ঠিক পরেই নিজের হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে ‘সরি’ লিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন মদন মিত্র। রাজনৈতিক মহলের মতে, তিনি মমতার প্রতি ব্যক্তিগত শ্রদ্ধা বজায় রাখলেও বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি বীতশ্রদ্ধ। দল ছাড়ার সময় মমতাকে ধন্যবাদ জানালেও, দলের অন্দরে বর্তমান ‘কাল্ট’-এর তীব্র বিরোধিতা করেন তিনি।

এদিকে এই দলবদলকে ‘বিজেপির স্ক্রিপ্ট’ বলে কটাক্ষ করেছেন তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, “মদন মিত্র দিদিকে মেসেজ করে জানিয়েছিলেন যে তাঁর পরিবারকে সমন করা হয়েছে। এখন তো বলতেই হবে এটা বিজেপির স্ক্রিপ্ট। এতদিন মন্ত্রী ছিলেন, ক্ষমতা এনজয় করেছেন, তখন তো অভিষেককে খারাপ মনে হয়নি! যেই ইডি সমন করল, অমনি ঋতব্রতদের ঘরে গিয়ে হাজির হলেন।”

অন্যদিকে, মদন মিত্রের যোগদানে উচ্ছ্বসিত ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “এটি ‘ইনডিভিজুয়াল কাল্ট’-এর বিরুদ্ধে একটি কালেক্টিভ লড়াই। মদন মিত্র সেই লড়াইকেই শক্তিশালী করছেন।” মদন মিত্রের মতো একজন অভিজ্ঞ নেতার এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে শাসকদলের অন্দরে যে অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, অনুব্রত মণ্ডলের পর মদন মিত্রের এই অভিযোগগুলোর প্রেক্ষিতে শাসকদল পরবর্তী কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে।