চরম বিতর্কের মুখে ‘মিডলম্যান’ তাপস মণ্ডল, সায়নী ঘোষের আইনি তোপে পিঠ ঠেকেছে দেওয়ালে!

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নাম জড়িয়ে পড়ায় এবার সরাসরি আইনি পথে হাঁটলেন যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ। নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে চর্চিত ‘মিডলম্যান’ তাপস মণ্ডলের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানির নোটিস পাঠালেন তিনি। সায়নীর অভিযোগ, তাপস মণ্ডল কোনো অকাট্য প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে নিয়ে ভিত্তিহীন এবং কুরুচিকর মন্তব্য করে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন।
সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাপস মণ্ডল দাবি করেন যে, নিয়োগ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ সাংসদ সায়নী ঘোষের পিছনে প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছেন। তাপস মণ্ডলের দাবি, কুন্তল সায়নীকে ফ্ল্যাট ও গাড়ি উপহার দিয়েছিলেন। এই বিস্ফোরক মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই সায়নী ঘোষ আইনি নোটিস পাঠিয়েছেন। নোটিসে সায়নী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ২০২০ সালে তিনি ৮০ লক্ষ টাকায় যে ফ্ল্যাটটি কিনেছিলেন, তার জন্য ৬০ লক্ষ টাকা ব্যাংক লোন নিয়েছিলেন। এছাড়া ২০২৪ সালে কেনা স্করপিও এবং হন্ডা জ্যাজ গাড়ির উৎস নিয়েও তিনি স্বচ্ছ হিসাব দিয়েছেন। সাংসদের আয়ের উৎস এবং জীবনযাত্রার স্বচ্ছতা তুলে ধরাই এই নোটিসের মূল লক্ষ্য।
সায়নী ঘোষ এদিন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “তাপস মণ্ডল বারবার ক্যামেরার সামনে আমার ফ্ল্যাট কেনা ও রাজনৈতিক যোগসূত্র নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছেন, তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। ২০২৩ সালে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা আমাকে তলব করেছিল, আমি ৫’শ পাতার নথি জমা দিয়েছিলাম। তারপর থেকে এজেন্সি আমাকে আর কোনো তলব করেনি। তবুও তিনি একইভাবে মিথ্যে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন।”
সাংসদের কথায়, “আমি একজন জনপ্রতিনিধি এবং যাদবপুরের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। কারও বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মন্তব্য করা অন্যায়। আমি তাঁকে মানহানির নোটিস পাঠিয়েছি এবং প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছি।” সায়নী আরও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, তাপস মণ্ডল যদি এই নোটিস মেনে না নেন, তবে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পিছপা হবেন না।
রাজনৈতিক মহলে সায়নী ঘোষের এই কঠোর পদক্ষেপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। নিয়োগ দুর্নীতি মামলার আবহে যেভাবে একের পর এক তৃণমূল নেতৃত্বের নাম জড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে সায়নী আইনি জবাব দিয়ে স্বচ্ছতা প্রমাণের লড়াই শুরু করলেন। তাপস মণ্ডলের মতো ‘রিপিট অফেন্ডার’-এর বিরুদ্ধে এই নোটিস ভবিষ্যতে তদন্তের গতিপথ কোনদিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।