রাজ্যে দুর্যোগের ঘনঘটা! উত্তরবঙ্গে লাল সতর্কতা, দক্ষিণবঙ্গেও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস

আষাঢ়ের শুরুতেই রাজ্যে বর্ষা তার পূর্ণ শক্তি প্রদর্শন করছে। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ—সর্বত্রই অঝোর ধারায় বৃষ্টিতে জনজীবন বিপর্যস্ত। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয় বাষ্পের প্রভাবে আগামী কয়েকদিন রাজ্যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বজায় থাকবে।

উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি: লাল সতর্কতা বর্ষার দাপট সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে উত্তরবঙ্গে। গত ২৪ ঘণ্টায় আলিপুরদুয়ারের সাঁকোশ চা বাগানে ২১ সেন্টিমিটার এবং জলপাইগুড়ির শুঙ্গাচি চা বাগানে ১৯ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

  • সতর্কতা: দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির (২০ সেন্টিমিটারের বেশি) জন্য ‘লাল সতর্কতা’ জারি করা হয়েছে।

  • ঝুঁকি: পার্বত্য এলাকায় ধস নামার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও তিস্তা, তোর্সা, জলঢাকা ও রায়ডাক নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পেয়ে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া: ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টি বাড়ার পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ার দাপটও বাড়বে।

  • ঝড়ের গতি: পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া, বাঁকুড়া এবং হুগলিতে ৪০-৫০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। ৩০ জুন ও ১ জুলাই বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও বর্ধমান জেলাতেও ঝড়ের গতিবেগ একই থাকতে পারে।

  • ভারী বৃষ্টির সতর্কতা: ১ জুলাই ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। এরপর ৫ জুলাই রবিবার কলকাতা, হাওড়া, হুগলি ও দুই ২৪ পরগনাতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রশাসনের বার্তা আবহাওয়া দপ্তর রাজ্যবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে বজ্রপাত ও প্রবল ঝড়ের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাহাড়ের দিকে পর্যটকদের ভ্রমণেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।