AI-আতঙ্কে ইতি! TCS-এর ঝুড়িতে ৯.৫ বিলিয়ন ডলারের কনট্র্যাক্ট, খুলল চাকরির নতুন দুয়ার

গত এক বছর ধরে আইটি সেক্টর নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দানা বেঁধেছিল, অবশেষে তা কাটিয়ে আশার আলো দেখাল দেশের বৃহত্তম সফটওয়্যার রফতানিকারী সংস্থা টিসিএস (TCS)। মন্দার জল্পনা ও কর্মী সংখ্যা হ্রাসের ধারা ভেঙে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল-জুন) রেকর্ড সংখ্যক কর্মী নিয়োগ করল টাটা গোষ্ঠীর এই সংস্থা।

রেকর্ড নিয়োগের পরিসংখ্যান চলতি ত্রৈমাসিকে নিট ৯,২৭৯ জন নতুন কর্মী নিয়োগ করেছে টিসিএস, যা গত তিন বছরের মধ্যে কোনো একক ত্রৈমাসিকে সর্বোচ্চ। এই নিয়োগের ফলে টিসিএস-এর মোট কর্মী সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫,৯৩,৭৯৮ জনে। এর মধ্যে প্রায় ১৪,০০০ ফ্রেশার বা ক্যাম্পাস রিক্রুটদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির এই ‘ইউ-টার্ন’ আইটি শিল্পে নতুন কর্মসংস্থানের বার্তা দিচ্ছে।

কেন হঠাৎ এই পরিবর্তন? চলতি বছরে সংস্থার নিট মুনাফা ৫ শতাংশ বেড়ে ১৩,৩৪৯ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এই সাফল্যের পেছনে বড় অনুঘটক হলো ৯.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল অর্ডার বুক। বিশেষ করে SKF-এর সঙ্গে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের মেগা এআই-ট্রান্সফরমেশন ডিল এবং ইউরোপের একটি ফরচুন গ্লোবাল ৫০ সংস্থার সঙ্গে বিপুল অর্থের চুক্তি টিসিএস-এর কাজের পরিধি অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে।

যা বলেছিলেন সুদীপ কুন্নুমাল পূর্ববর্তী ত্রৈমাসিকগুলোতে কর্মী সংখ্যা হ্রাসের কারণ হিসেবে টিসিএস-এর চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার সুদীপ কুন্নুমাল জানিয়েছিলেন, এটি কোনো পরিকল্পিত ছাঁটাই ছিল না। বরং কর্মীদের স্বেচ্ছায় ইস্তফা, পারফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর প্রক্রিয়াই ছিল এর মূল কারণ। মার্চ ত্রৈমাসিক থেকেই পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করে।

এআই যুগে চাকরির নতুন নিয়ম আইটি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন যে, করোনা পরবর্তী সময়ের ‘অন্ধের মতো নিয়োগ’ (Mass Hiring) আর দেখা যাবে না। এখন নিয়োগ হবে অত্যন্ত ‘স্পেশালাইজড’ বা সুনির্দিষ্ট দক্ষতার ভিত্তিতে। টিসিএস-এর মতো সংস্থাগুলো এখন মূলত:

  • এআই (AI)

  • ক্লাউড কম্পিউটিং

  • সাইবার সিকিউরিটি

  • ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং এই ক্ষেত্রগুলোতে দক্ষ কর্মীদের খোঁজ করছে। অর্থাৎ, শুধু প্রথাগত কোডিং জানা কর্মীদের চাহিদা কমেছে। যারা আধুনিক প্রযুক্তি আয়ত্ত করতে পারবেন, তারাই চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকবেন।

টিসিএস-এর এই নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিতভাবেই আইটি সেক্টরের লক্ষ লক্ষ তরুণ পেশাজীবীর জন্য এক বড় স্বস্তির খবর।