রাজ্যে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পরেই পদত্যাগ ঝালদার তৃণমূল চেয়ারম্যানের! তীব্র রাজনৈতিক সংকটে পুরুলিয়া

রাজ্যের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ক্ষমতার পালাবদলের পরেই তীব্র প্রশাসনিক সংকটের মুখে পড়ে অবশেষে পদত্যাগ করলেন পুরুলিয়ার ঝালদা পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়াল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই কার্যত চরম ক্ষমতাহীন হয়ে পড়েছিলেন তিনি। এমনকি পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম চালাতে গিয়েও তাঁকে নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছিল। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, গত শনিবার সন্ধ্যায় তিনি ই-মেল মারফত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁর ইস্তফাপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। এই চাঞ্চল্যকর পদত্যাগের ফলে ঝালদা পুরসভার অন্দরে নতুন করে চরম রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন ঝালদা পুরসভারই নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক তৃণমূল পুর প্রতিনিধি। তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “বিরোধী দলের পক্ষ থেকে যদিও বা বলা হয়েছিল যে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত কোনো পুরসভা বা জেলা পরিষদ তারা ভাঙবে না, কিন্তু পর্দার আড়ালে আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া সহ নানা কৌশলগত চাপের মুখে ফেলে বিরোধী দলের পদাধিকারীদের কাজ করতে না পেরে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।” উল্লেখ্য, কংগ্রেস নেতা তপন কান্দু হত্যা মামলা থেকে শুরু করে একাধিক রাজনৈতিক ও সংবেদনশীল ঘটনার জেরে অতীতেও পুরুলিয়ার এই ঝালদা পুরসভা বারবার খবরের শিরোনামে উঠে এসেছে। তবে রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই এখানকার রাজনৈতিক পরিস্থিতি পুরোপুরি টালমাটাল হয়ে উঠেছিল। এবার পুরপ্রধানের আচমকা পদত্যাগের ফলে ঝালদার সাধারণ মানুষের পরিষেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

মোট ১১টি আসন বিশিষ্ট এই ঝালদা পুরসভায় ১০ জন কাউন্সিলর তৃণমূল কংগ্রেসের এবং মাত্র ১ জন কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন। এই পদত্যাগের বিষয়ে ঝালদা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সুদীপ কর্মকার জানিয়েছেন, “পুরপ্রধান গত প্রায় দশ দিন ধরে অসুস্থ রয়েছেন, এ কথা সম্পূর্ণ সত্য। তবে তিনি যে এভাবে হঠাৎ পদত্যাগ করবেন, সে বিষয়ে তিনি আমাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা পরামর্শ করেননি।” অন্যদিকে, একমাত্র কংগ্রেস সদস্য বিপ্লব কয়ালের বক্তব্য তুলে ধরে বলা হয়েছে যে, ঝালদা পুরসভার অর্থনৈতিক অবস্থা এমনিতেই দীর্ঘদিন ধরে খুব একটা ভালো ছিল না। তার ওপর রাজ্য থেকে যে সমস্ত আর্থিক অনুদান বা সাহায্য আসার কথা ছিল, তা সময়মতো মিলছিল না। তহবিলের অভাবে পুরসভার দৈনন্দিন উন্নয়নমূলক কাজ ও পরিষেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল।

পুরসভার মহকুমাশাসক মানস কুমার পান্ডা এই পদত্যাগের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, “আমরা ই-মেলের মাধ্যমে একটি পদত্যাগপত্র পেয়েছি। তবে সেই মেল এবং পদত্যাগপত্রটি আইনসম্মতভাবে যাচাই করার পরেই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা সম্ভব হবে।” এদিকে, এই পদত্যাগের খবরের সত্যতা যাচাই করতে ঝালদার বিদায়ী চেয়ারম্যান সুরেশ আগরওয়ালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের দখলে থাকা একাধিক পুরসভা ও পুরনিগমে একই ধরনের সংকট দানা বাঁধছে। কলকাতা, বিধাননগর এবং শিলিগুড়ির মতো বড় বড় পুরনিগমের মেয়রদের পদত্যাগ করার পর এবার ছোট ও মাঝারি আকারের পুরসভাগুলির ক্ষেত্রেও প্রশাসক বসানোর পথ প্রশস্ত হচ্ছে। ঝালদার এই সাম্প্রতিক ঘটনা সেই রাজ্যজোড়া পরিবর্তনের ধারাকেই আরও একবার জোরালোভাবে স্পষ্ট করে দিল।