শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগেও থামছে না ঝড়! পার্লামেন্টে এবার কোন বড় অস্ত্রে মোদী সরকারকে ঘিরতে চলেছে বিরোধী শিবির?

দেশের রাজনৈতিক ময়দানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা তীব্র ঝড়-ঝাপটার পর অবশেষে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় এসেছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে দেশজুড়ে চলা লাগাতার ছাত্র-আন্দোলনের মুখে পড়ে সরকার নতিস্বীকার করতে বাধ্য হয় এবং প্রধানের পদত্যাগের পরই আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেয় সিজেপি। তবে ছাত্র বিক্ষোভ সাময়িকভারে স্তিমিত হলেও জাতীয় রাজনীতির পারদ নামার তো দূরের কথা, উল্টে আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই পদত্যাগকে শুধুমাত্র একটি প্রারম্ভিক বিজয় হিসেবে দেখছে বিরোধী দলগুলি। কংগ্রেসসহ সমমনা সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এখন এই ইস্যুতে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। তাদের পরিষ্কার দাবি, কেবল শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফাতেই এই সংকটের সমাধান হবে না; বিগত ২০ জুলাই সংসদ অভিযান চলাকালীন ছাত্রছাত্রীদের ওপর যে নির্মম পুলিশি অত্যাচার চালানো হয়েছিল, তার সম্পূর্ণ নৈতিক দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিতে হবে এবং দেশের লক্ষ লক্ষ যুবসমাজের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।
আগামী সোমবার সংসদের উভয়কক্ষে প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত কঠোর সংশোধনী বিল পেশ করার কথা রয়েছে সরকারের, যাতে অপরাধীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোরতম শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু এই বিল পেশের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংসদের অন্দরে ঝড় তুলতে পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে বিরোধী ইন্ডিয়া (INDIA) জোট। সরকারি এই বিলের বিরুদ্ধে এবং নিজেদের মূল দাবিগুলির পক্ষে যৌথভাবে ফ্লোর কো-অর্ডিনেশন বা কৌশল নির্ধারণ করতে সোমবার ঠিক সকাল ১০টায় সংসদের অন্দরে এক উচ্চপর্যায়ের জরুরি বৈঠকে বসতে চলেছে ইন্ডিয়া জোটের সমস্ত শীর্ষস্থানীয় সংসদীয় নেতারা। সোমবারের এই বৈঠকে মূলত ঠিক করা হবে যে কীভাবে সরকারের বিলের ওপর আলোচনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শাসকদলকে বেকায়দায় ফেলা যায়।
অন্যদিকে, বিরোধীদের এই বহুমুখী আক্রমণের বিরুদ্ধে বসে নেই শাসক দল বিজেপিও। সরকারের পক্ষ থেকে প্রধান হাতিয়ার করা হচ্ছে ইউপিএ জমানার দীর্ঘ রেকর্ড এবং বিভিন্ন বিরোধী-শাসিত রাজ্যে অতীতে ঘটে যাওয়া প্রশ্নপত্র ফাঁস ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার খতিয়ানগুলিকে। প্রশ্নফাঁস রুখতে কেন্দ্রের আনা নতুন সংশোধনী বিলের ওপর আলোচনার পরিসরটিকে সম্পূর্ণভাবে কাজে লাগিয়ে বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির গাফিলতিকে জাতির সামনে তুলে ধরতে মরিয়া গেরুয়া শিবির।
তবে পরিস্থিতিকে আরও বেশি জটিল করে তুলেছে আরও একটি নতুন ইস্যু। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের মতো বড় ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার রাম মন্দিরের চুরির চাঞ্চল্যকর প্রসঙ্গটিকে পার্লামেন্টে সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে সমাজবাদী পার্টি (SP), কংগ্রেস এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি। সংসদের চলতি অধিবেশনেই এই অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং আলোচিত বিষয়ে দীর্ঘ আলোচনার দাবি জানিয়ে সংসদের দুই কক্ষেই একাধিক বিরোধী সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে মুলতবি প্রস্তাব জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সোমবার সকালে ইন্ডিয়া জোটের যৌথ বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলির চূড়ান্ত রূপরেখা এবং রণকৌশল চূড়ান্ত করা হবে, যা নিশ্চিতভাবেই আসন্ন সংসদীয় অধিবেশনে এক তীব্র রাজনৈতিক সংঘাতের আবহ তৈরি করতে চলেছে।