ছাত্র আন্দোলনের আড়ালে ভয়ঙ্কর মাফিয়া রাজ! হাতে বন্দুক, নেতার সঙ্গে ছবি ভাইরাল হতেই অস্বস্তিতে শাসকদল

ছাত্র বিক্ষোভের নামে গত শুক্রবার কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ধর্মতলায় যে নজিরবিহীন তাণ্ডব ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল, সেই মামলায় এবার এক ভয়ংকর মোড় সামনে এসেছে। পুলিশের জালে ধরা পডা অন্যতম অভিযুক্ত মহম্মদ আফরোজের সঙ্গে শাসকদলের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে চরম শোরগোল শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কঠোর বার্তার পরেই আসরে নামে লালবাজারের গোয়েন্দা বাহিনী। দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে গত শনিবার অন্ডাল এলাকা থেকে অন্য রাজ্যে পালিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে আফরোজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর আগে বিধানসভার ফ্লোরেও এই আফরোজের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। অথচ যে ছাত্র বিক্ষোভ ও নিট (NEET) পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনকে সামনে রেখে এই ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটানো হয়েছিল, তার সঙ্গে এই ধৃত অভিযুক্তের দূরদূরান্ত পর্যন্ত কোনো সম্পর্ক নেই। সে আদতে কোনো ছাত্রই নয়, বরং তার আসল পরিচয় নিয়ে এখন রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।

তদন্তে নেমে পুলিশের হাতে যে সমস্ত ডিজিটাল প্রমাণ ও তথ্য এসেছে, তা রীতিমতো শিহরণ জাগানোর মতো। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে চোখ রাখলে দেখা যায়, ধৃত আফরোজের নামে একাধিক রিলস ভিডিও ও ছবি ছড়িয়ে রয়েছে। কখনো তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র বা বন্দুক দেখা যাচ্ছে, আবার কখনো সে তার সাগরেদদের নিয়ে বীরদর্পে হেঁটে চলেছে। সোশাল মিডিয়ায় আপলোড করা একাধিক ভিডিওতে সে এবং তার দল নিজেদের কুখ্যাত ‘মাফিয়া গ্যাং’ ও ‘টিম মাফিয়া’ বলে পরিচয় দিয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে উগ্র গান ও সিনেমার জনপ্রিয় সংলাপ ব্যবহার করে রীতিমতো প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালাত সে। শুধু তাই নয়, মেটিয়াবুরুজের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লার নির্বাচনী প্রচারের গাড়িতেও তার সরব উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। এমনকি শাসকদলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তার পোজ দেওয়া ছবি এখন নেটদুনিয়ায় ভাইরাল। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, গায়ে তৃণমূলের উত্তরীয় ও পরনে পোশাকে সে একেবারে নেতার কায়দায় ভিড়ের মাঝে হেঁটে চলেছে এবং ছবির নিচে লেখা রয়েছে—’মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানেই উন্নয়ন’।

এই তীব্র রাজনৈতিক ও সামাজিক সমালোচনার মুখে পড়ে মুখ খুলতে বাধ্য হয়েছেন মেটিয়াবুরুজের তৃণমূল বিধায়ক আব্দুল খালেক মোল্লা। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে অভিযুক্ত আফরোজকে চেনেন না। তাঁর সাফাই, ভোটের সময় প্রচারে বহু মানুষই থাকতে পারে এবং ভিড়ের মধ্যে কে কোন মতাদর্শের তা খতিয়ে দেখা সব সময় সম্ভব হয় না। তবে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে কেউ যদি কোনো অন্যায় বা অপরাধমূলক কাজ করে থাকে, তবে তার বিরুদ্ধে কঠোর ‘গুন্ডা দমন আইন’ প্রয়োগ করা উচিত এবং আইন নিজের পথেই চলবে। এদিকে পুলিশ সূত্রে খবর, এই মহম্মদ আফরোজের বিরুদ্ধে এর আগেও স্থানীয় থানায় একাধিক সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের রয়েছে। ছাত্র সমাজের পবিত্র আন্দোলনকে নিজেদের হীন স্বার্থে ব্যবহার করে যারা শহরে নাশকতা চালিয়েছে, তাদের এই মাফিয়া চক্রের আসল উদ্দেশ্য কী ছিল, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লাগাতার জেরা শুরু করেছে।