দুধ না ডিম—কোনটিতে রয়েছে বেশি প্রোটিন? পুষ্টিবিদদের এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানলে আজই বদলাবেন আপনার ডায়েট!

দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিনের উৎস হিসেবে ডিম এবং দুধের তুলনা দীর্ঘকাল ধরে চলে আসছে। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষ থেকে শুরু করে শরীরচর্চায় আগ্রহী তরুণ প্রজন্ম— সবারই ডাইনিং টেবিলে এই দুটি উপাদান অপরিহার্য। কিন্তু পুষ্টির সঠিক জোগান পেতে এবং পেশির সঠিক গঠনে এই দুই খাবারের মধ্যে কোনটি বেশি কার্যকরী, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা ধরনের প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি লেগেই থাকে। এই চিরন্তন বিতর্কের অবসান ঘটাতে পুষ্টিবিজ্ঞান এবং খাদ্য বিশেষজ্ঞরা বিস্তারিত গবেষণা ও বিশ্লেষণ সামনে এনেছেন, যা আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে দারুণভাবে সাহায্য করতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, দুধ এবং ডিম উভয়ই অত্যন্ত উচ্চমানের প্রোটিনের চমৎকার উৎস, তবে উভয়ের কাজ করার ধরণ এবং শরীরে প্রোটিন শোষণের হার সম্পূর্ণ আলাদা। একটি মাঝারি সাইজের সেদ্ধ ডিমে প্রায় ৬ থেকে ৭ গ্রাম পর্যন্ত উচ্চ মানের প্রোটিন পাওয়া যায়, যা মানবদেহের পেশি মেরামত এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত দ্রুত কাজ করে। অন্যদিকে, এক গ্লাস বা প্রায় ২৫০ মিলিলিটার তরল দুধে প্রায় ৮ গ্রামের বেশি প্রোটিন থাকে। তবে কেবল প্রোটিনের পরিমাণের দিকটি দেখলেই চলবে না, কোন প্রোটিনটি শরীরের অন্দরে কতটা নিখুঁতভাবে শোষিত হচ্ছে, তা বিচার করার জন্য ‘বায়োলজিক্যাল ভ্যালু’ বা জৈবিক মূল্যের হিসাব করা অত্যন্ত জরুরি। এই মানদণ্ডে ডিমকে প্রায় নিখুঁত প্রোটিন হিসেবে গণ্য করা হয়, কারণ ডিমের ভেতরে থাকা প্রোটিন মানবদেহ অত্যন্ত সহজে এবং প্রায় শতভাগ নিজের কাজে লাগাতে পারে।
অন্যদিকে, দুধের মধ্যে দু’ ধরণের প্রোটিন থাকে— কেসিন এবং হুই প্রোটিন। এর মধ্যে হুই প্রোটিন দ্রুত হজম হয় এবং শরীরচর্চার পরে পেশি গঠনে জাদুর মতো কাজ করে, আর কেসিন প্রোটিন দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে ধীরে ধীরে শক্তি ও পুষ্টি সরবরাহ করতে থাকে। ফলে চিকিৎসকদের মতে, কেবল একটিকে সেরা বলার কোনো সুযোগ নেই। আপনি যদি দ্রুত পেশির শক্তি বাড়াতে চান এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তবে ডিমের কার্যকারিতা অতুলনীয়। আবার অন্যদিকে হাড়ের শক্তি বৃদ্ধি, ক্যালসিয়ামের চাহিদা মেটানো এবং সার্বিক পুষ্টির জন্য দুধের জুড়ি মেলা ভার। তাই পুষ্টিবিদরা কোনো একটিকে বাদ না দিয়ে সুষম ডায়েটে দুধ ও ডিম— উভয়কেই পরিমিত মাত্রায় রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন, যাতে শরীর একসঙ্গে ভিটামিন, মিনারেলস এবং অ্যামিনো অ্যাসিডের পরিপূর্ণ সুফল পেতে পারে।